Please share-

[গল্পটি লিখার শেষ তারিখ: ৫ অক্টোবর ২০২৩ খ্রি. রাত ১ টা ১৫ মিনিট এবং এ দিন ভোর বেলাতেই অজানা এক উদ্দেশ্যে প্রচন্ড মানসিক চাপ নিয়ে এবং খাদ্যাভাবে ও শারীরিক অসুস্থতা সহ্য করে অবিরাম বৃষ্টির মধ্যে এ গ্রাম ছেড়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হতে বাধ্য হই। আর তার আগেই ফ্যামিলির সদস্যরা বেড়াবার উদ্দেশ্যে নানার বাড়িতে যায়। এবং আমার প্রাণপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় মা যখন বলে, এ মাসে তোর দিকে আমার খানা; আমি তখন তাঁকে বলি, আমার ঘরে গিয়ে খাবে কী? এ যেন জীবনের এক চরম ট্রাজেড়ি। যা লিখতে গিয়ে অনেকবার দুচোখ বেয়ে আমার পানি ঝরেছে।]

বন্ধুরা, আজকে তোমাদেরকে এমন একটি বাস্তব গল্প শোনাবো, যেখানে ঋণ দাতা সরল, দূর্বল এবং হক  ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে চেষ্টা করায়, সে ঋণদাতাকেই ঋণখেলাপীর নিকট নাজেহাল এবং সমাজের নিকট দোষী সাব্যস্ত হতে হচ্ছিলো। অপরদিকে ঋণখেলাপীই সমাজের নিকট গ্রহণযোগ্য হতে থাকলো।

চলো, এমনই একটি গল্প শুরু করা যাক। আশা করি ধৈর্য্য ধরে পুরো গল্পটা পড়বে এবং কে দোষী ও কে নির্দোষী, সে বিচার করে যাবে এবং সম্ভব হলে কমেন্টস সেকশনে তা জানিয়ে যাবে।

তবে গল্পটি এমন এক সময়ে লিখা হচ্ছে, যখন আমার পেটে ভাত নেই। পরিবারের সদস্যদের ভরন-পোষণ দিতে না পেরে এবং আমার ও তাদের বেঁচে থাকার কোন উপায় না দেখে আমি অনেকটা দিশেহারা প্রায়। প্রায় মৃত্যুপথ যাত্রি। আমার মুখে কথা বের হচ্ছে না ভাই। কারণ আমার এ সময়টি তোমাদেরকে গল্প শোনাবার সময় নয়। তবুও অসত্য কেন জিন্দাবাদ, আর সত্য কেন মুর্দাবাদ; বিষয়টি মেনে নিতে না পারায়, তোমাদের সাথে তা শেয়ার করছি। দোয়া করবে, অন্তত কিছুটা হলেও যেন বুঝিয়ে লিখতে পারি।

এখানে স্পষ্ট করে মনে রাখবে, এ গল্পের চরিত্র গুলো বাস্তব হলেও, আমি কিন্তু গল্পের ২য় পক্ষ বা কাউকেই হেয় করার জন্য, এ পোস্ট পাবলিস্ট করছি না। আমি প্রকাশ করছি ওপেন কনভার্চেসনের জন্য। পারস্পরিক সংশোধনের জন্য। সামাজিক শিক্ষার জন্য। তোমাদের কাছ থেকে উপদেশ ও পরামর্শ শোনার জন্য। এবং জীবনের একটা স্মৃতি স্মারক হিসেবে।

অতএব তোমরাও এ গল্পের কাউকেই খাটো বা অপমাণ করে কিছু বলবে না। পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা করবে। মজলুমকেও সহযোগিতা করবে এবং জালেমকেও বুঝাবে, যেন সে সংশোধিত হয়।

আমি কিন্তু গল্পের ২য় পক্ষকে ভালোবাসি। অতএব গীবত আর চোগলখুরি করে হয়তো মাঝ পথ দিয়ে তোমরা যাবে অধ:পতনে, আমরা বন্ধু, বন্ধুই থাকবো হয়তো। কথা গুলো মনে রাখবে ভালো করে।

পারলে পুরো গল্পটি পড়বে, নতুবা বাস্তব এ গল্পের নির্দিষ্ট অংশ পড়তে নিম্নে ক্লিক করতে পার-

১ম পক্ষ: ঋণদাতা:

সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও এমডি, জনাব মুহাম্মদ আরিফ উল্যাহ, গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার, ফেনী সদর, ফেনী।

 ২য়পক্ষ: ঋণ খেলাপী:

সমিতির সদস্য জনাব বেলায়েত হোসেন, রংমালা কাজী বাড়ী, রামপুর, কোম্পানী গঞ্জ, নোয়াখালী। বর্তমান ঠিকানা:- স্বত্ত্বাধিকারী, তায়েফ লাইব্রেরী এন্ড ষ্টেশনারী, সদর হাসপাতাল রোড, ফেনী সদর, ফেনী।

ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান:

বন্ধন ইসলামি সমবায় সমিতি লি: (প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষিত হয়েছে। কেন এবং কী কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেলো বা বন্ধ ঘোষণা করতে হলো, সে ঘোষণা পত্রটি সহ এ সমিতির অবস্থান ও পরিচিতি জানতে  এখানে ক্লিক করতে পারেন।), গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার, ফেনী সদর, ফেনী।

(ঋণখেলাপী কর্তৃক ঋণদাতাকে নাজেহাল, এ পোস্টটি শেয়ার করা যেতে পারে)

এ গল্পের লিখক ও প্রকাশক:

সমিতির এমডি, ১ম পক্ষ জনাব মুহাম্মদ আরিফ উল্যাহ।

পোস্টটি প্রকাশের উদ্দেশ্য:

ঋণ গ্রহীতা ও ঋণ খেলাপি হিসেবে ২য় পক্ষ কর্তৃক ১ম পক্ষের উপর একটি অন্যায় ও অপমাণ এবং হেয় প্রতিপন্ন মূলক ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধে শর্ত জুড়াচ্ছিলেন যে, ২য় পক্ষের সাথে ১ম পক্ষের আর কোন লেনদেন নেই  বা সমিতি পরিচালনায় (ইতিপূর্বে তাকে সমিতির সহ সভাপতি হিসেবে মনোনিত করেছিলাম এবং পরে বরখাস্ত করেছি) তিনি (২য় পক্ষ) কোন অনিয়ম করেননি বা তার স্বভাব চরিত্র ভালো; এ মর্মে ১ম পক্ষ কর্তৃক তাকে একটি সনদপত্র দিতে হবে (যেখানে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের লোগো থাকতে হবে)। নতুবা তিনি আর কোন ঋণের কিস্তি জমা দিবেন না।

আসলে ঋণ পরিশোধে তাকে কেন সনদপত্র দিতে হবে, এ ধরনের শর্ত তিনি কেন জুড়ালেন, তা তিনিই ভালো জানেন।

আর অত্যন্ত দু:খ ও আপসোচের বিষয় হচ্ছে, তার এ দাবীটি যার কাছেই বলি, তিনিই উল্টো আমাকেই এ রকম একটি সনদপত্র দিতে বলেন। যেন লোন দিয়ে আমিই বিপদে পড়েছি যে, অপমানিত হয়ে হোক বা লাঞ্চিত হয়ে হোক টাকা উদ্ধার আমাকে করতে হবে।

এক লোক পাইনি যে, যিনি বলবেন তুমি ঋণ খেলাপি, ঋণ নেয়ায় ও তা পরিশোধে তুমি অনিয়ম করেছ ও সমিতি থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছ; এখন তুমি কেন সময় মত ঋণ পরিশোধ করতে পারনি বা করনি, সে বিষয়ে মাফ চেয়ে ও কারণ দর্শিয়ে, তোমাকে দিতে হবে এর লিখিত উত্তর; তা না করে যে ঋণ দিয়েছে, ঋণ দিয়ে তোমার অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানে সহযোগিতা করেছে; এখন তার প্রায় মৃত্যুর সময়, অপরদিকে সমিতি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আজ প্রায় ১ বছর হলো। আর এ সময় বুঝি সে তোমাকে সনদপত্র দিবে? এটা তোমার অযুক্তিক আবেদন। তার ঋণটা দিয়ে দাও। তাছাড়া সনদ পত্র চাওয়ার বিষয়ে তোমার আসল উদ্দেশ্য কী? কারণ এ সনদপত্র দিয়ে তুমি করবে কী? সে কি তোমার জন্য হুমকি স্বরুপ? হুমকি স্বরুপ হলে, না হয় চাইতে পারতে।

এ ধরনের যুক্তিক কথা যখন কারো কাছ থেকেই পেলাম না এবং আমার কলেজের প্রিন্সিফল (যখন ঐ কলেজে শিক্ষকতা করেছি) এবং বন্ধুসম আরেক টিচার ও আমার এলাকার মেম্বার সাহেবও যখন প্রথমে এ কথাটাই বললো, আবার ২য় পক্ষও যখন মানুষের কাছে ফোন করে করে নিজের সাধুবাদ ও আমার নিন্দাবাদ গাইতে থাকলো, তখন জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে এবং সাধারণ জনতা থেকে কিছু পরামর্শ পাওয়ার উদ্দেশ্যে আমি এ পোস্টটি প্রকাশ করছি। এছাড়া তার (২য় পক্ষের) আসলে মনের ভাষা কী, তা সকলের সামনে সে ব্যক্ত করবে এবং বলবে কেন আমার কাছ থেকে লোন নিয়ে আমাকেই মানুষের কাছে হেয় করে রেখেছে বা রাখতে চাচ্ছে, আর মানুষ গুলোও তাকেই সমর্থন করছে; আমি ভাই বিষয়টি বুঝতে পারছি না। তাই সমাজের বুদ্ধিজীবীরা সহ এ পোস্টের ২য় পক্ষ আজ ওপেন ভাবে বলবেন, কেন আপনি লোন পরিশোধ করতে গিয়ে এ ধরনের শর্ত জুড়ালেন ও আপনার বুদ্ধিজীবী সহযোগীরাও আপনাকেই সমর্থন করলো, তাদের ভাষাইবা কী এবং আপনারা সকলে ওপেন ভাবেই আমার প্রশ্নের উত্তর সমূহ প্রদান করবেন। আমি বুঝতে চাই অন্যায় আজ কাকে বলে? আর ভালো মানুষের সংঙ্গা আজ কী? এছাড়া লোন পরিশোধের পর, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আসলে লোন দাতা কর্তৃক এ ধরনের কোন সনদের প্রয়োজনীয়তা বা যুক্তিকতা আছে কিনা।

তাই শান্তিপূর্ণ ওপেন কনভার্চেসনের জন্যেই আমার এ দূর্বল মূহুর্তেও আমি বাধ্য হয়ে এ পোস্ট প্রকাশ করছি। আপনি বা আপনাদের কথা বা যুক্তি সমূহ এ পোস্টের কমেন্টস সেকশনে লিখবেন আশা করি।

তবে সম্মানিত ভিউআর গণ সহ পরিচিত-অপরিচিত বা সংশ্লিষ্ট কেউ আপনারা ঘূর্ণাক্ষরেও ভাববেন না যে, এ পোস্টটি ২য় পক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বা তাকে অপমাণ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করেছি। যেহেতু এ পর্যন্ত ২য় পক্ষ আমার এলাকার অনেক লোকের কাছে ফোন করে করে, তার সাধুবাদ ও আমার নিন্দাবাদ গাইছেন। তাই ভাবলাম, এতো ফোন করে টাকা ফেলার দরকার নেই; আসুন আমরা ওপেন কনভার্চেসনে অংশ নিই এবং মানুষের মাঝে নিজেদেরকে সংশোধন করে নিই।

আমার (১ম পক্ষ) বর্তমান অবস্থা:

সকলে স্বরণ করুন ও মনেরাখুন, পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে আমি আজ প্রায় মৃত্যুপথ যাত্রি। কারণ মানুষ খাদ্য খেয়ে বাঁচে। কিন্তু আমার কাছে খাদ্য কেনার টাকা নেই। আজ প্রায় ৬ মাসেরও উপরে আমি সম্পূর্ণ বেকার। এর আগেও আমার তেমন কোন ইনকাম ছিলো না। বর্তমানে কোনদিক থেকেই কোন ইনকাম আমার নেই। যাক এর বেশি কিছু এ মুহুর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না। শুধু বলতে চাই, মৃত্যুর সময়, মানুষ মানুষের মুখে কালিমা তুলে দেয়; আর আপনারা আমার প্রাপ্য ভাত, আমার মুখে না দিয়ে, আমার সাথে করছেন জেরা।

হে সমাজ!! তোমরা শুধু তামাশা চাও। কারণ আমি যে জ্বীন ওয়ালা মানব!! তাই আমার জ্বীন তাড়াতে গিয়ে আমার উপর শুধু টর্চারিং করো!! টর্চারিং করতে করতে আমায় পাগল সাব্যস্ত করো এবং আমার সহায় সম্পত্তি ও সম্ভাবনা সমূহ নি:শেষ করে দাও। আর মানুষের কাছে বলতে থাকো আমি পাগল; আমার কোন যোগ্যতা নেই। ইত্যাদি। যে বিষয়টি আমি প্রায় গত ২২ বছর ভূগেছি এবং এখনো ভূগছি।

ভায়েরা আমার, এ যেন অন্যায় আর সুবিধা ভোগীদের সাথেই আজ দলবল; যে যত সত্য, সে যেন আজ তত একা।

(ঋণখেলাপী কর্তৃক ঋণদাতাকে নাজেহাল, এ পোস্টটি শেয়ার করা যেতে পারে)

ঋণ প্রদান বা গ্রহণের তারিখ:

০১/০৪/২০১৯

মোট ঋণের পরিমাণ:

১,00,0,00/- (একলক্ষ টাকা)

মোট কিস্তি সংখ্যা ও পরিশোধের তারিখ:

১৮টি সমপরিমাণ মাসিক কিস্তি, প্রতি ইংরেজি মাসের ১১ তারিখের মধ্যে প্রত্যেক কিস্তি পরিশোধের চুক্তিতে ঋণ দেয়া হয়। (ঋণ নেয়ার ১ম ১০ দিন আমরা ব্যবসা করার জন্য বা প্রস্তুত হওয়ার জন্য ফ্রি সময় দিতাম)

প্রতি কিস্তির পরিমাণ ও পরিশোধের শেষ তারিখ:

প্রতি কিস্তির পরিমাণ ৬৪৪৫টাকা ও সবগুলো কিস্তি পরিশোধের শেষ তারিখ  ১১/১১/২০২০

১৮ কিস্তিতে মোট ঋণ পরিশোধের পরিমাণ:

১,১৬,০১০/-

 লভ্যাংশের হার:

১৬%

অদ্য ০১/১০/২০২৩ তারিখের সর্বশেষ স্টেটাস:

এখনো এক কিস্তি বকেয়া রয়েছে।

ঋণখেলাপী হিসেবে পিরিয়ড়:

প্রায় ৩ বছর

ঋণ প্রদানের নিয়মে যা ছিলো:

তার দোকানের মালামাল কিনে দিয়ে, ঐ মালামাল তার নিকট বাকিতে বিক্রয় করেছিলাম এবং সে বিক্রয়মূল্যই ছিলো তার ঋণ পরিশোধের টাকা। যা ছিলো একটি ইসলামি তরিকা ও যার পরিপেক্ষিতে কোন জরিমানা আদায়ের নিয়ম ছিলো না আমাদের সমিতিতে। এবং ঋণখেলাপীকে জনসম্মুখে প্রকাশ করা গিয়ে দূরে থাক, এ পর্যন্ত ঋণ আদায়ের বিষয়ে কোন ঋণ খেলাপীর সাথে কোন ধরনের মনেকষ্ট মূলক বা অপমাণ মূলক ব্যবহারও করা হয়নি। প্রায় ৭/৮ বছর সমিতি পরিচালনাকালীন এ পর্যন্ত এ এ প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না আশাকরি।

(ঋণখেলাপী কর্তৃক ঋণদাতাকে নাজেহাল, এ পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করা যেতে পারে)

উপর্যুক্ত ব্যক্তিকে কেন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলো:

আসলে তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে এ পোস্ট প্রকাশ করা হয়নি। যে কারণে তাকে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে, সে পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে, আমি সবাইকে ধৈয্য ধরে পড়া চালিয়ে যেতে অনুরোধ করছি। এছাড়া পোস্টটি প্রকাশের উদ্দেশ্যতো ইতিমধ্যে আপনারা জানতে পেরেছেন। তাহলে তাকে কেন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলো, ইতিমধ্যেই আপনারা তা জানতে পেরেছেন।

২য় পক্ষের এ আবেদনের ব্যাকগ্রাউন্ড:

আসুন কেন ২য় পক্ষ এ ধরনের আবেদন করছে, তার একটা ব্যাকগ্রাউন্ড খুজতে চেষ্টা করি।

এখানে একটি কথা আপনাদেরকে জানিয়ে দিই; আমি কিন্তু শত্রু-মিত্র কারোরই বিরোধিতা বা হিংসা করি না এবং চাপাবাজি, গলাবাজি, গ্রুপিং, লোবিং, গীবত, চোগলখুরি ইনশা’আল্লাহ এসবে আমার তেমন কোন অভ্যাস নেই। আমার চরিত্রের এ বৈশিষ্ট্যের কারণে হয়তো ২য় পক্ষের নিন্দাও আমি কারো সাথে করবো না; হয়তো আগের মতোই মিশে চলার চেষ্টা করবো এবং তার ভালো কাজ গুলোর মূল্যায়ন করবো; কিন্তু সে জনসমক্ষে হেয় হয়ে যাওয়ার কারণে বা তার অপরাধ বা অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কারণে ভিতরে ভিতরে আমার ক্ষতি করে যাবে ও সমাজে প্রপাগান্ধা ছড়াবে। বিষয়টি নলেজে রাখবেন। কারণ এ পর্যন্ত বহু লোক আমাকে সমাজের কাছে অপমাণিত করে রেখেছিলো, শুধুমাত্র আমার চরিত্রের এ বৈশিষ্ট্যকে পুঁজি করে। অথচ আমি তাদেরকে সমাজে যথেষ্ট সম্মান নিয়ে চলতে দেখেছি; কিন্তু যেই মাত্র আমি বা আমার মজলুম ভাইটি বুঝতে পেরেছেন বা ২/১ জন লোক জানতে পেরেছে, শুধুমাত্র তখনই তিনি উক্ত অপরাধটি ছেড়েছেন; এর আগে নয়।

প্রথমেই আপনারা তার সঞ্চয় ও ঋনের পাশ বই থেকেই দেখুন, আমি তার কাছে আর কত পাই। প্রয়োজনে হাতের আঙ্গুল দিয়ে বড় করে অথবা মোবাইলকে ল্যান্ডস্ক্যাপে রেখে পড়বেন অথবা গুগল ড্রাইব থেকে পড়বেন।

[পিডিএফ ফরমেটের এ ফাইল গুলো ভালো ভাবে পড়তে প্রয়োজনে প্লে স্টোর থেকে বিনা মূল্যে আপনার মোবাইলে গুগল ড্রাইভ, পিডিএফ ভিউয়ার, গুগল ডক, ক্রোম ব্রাউজার এ ৪টি এপ্লিকেশন ইনস্টল দিয়ে নিবেন।]

 

 

উপর্যুক্ত পেজের সর্বশেষ ক্রমিকে দেখা যাচ্ছে, সে ১৭ তম কিস্তি জমা দিয়েছে, যার পরিমাণ ৬৪৪৫/- এবং ঐ একই ক্রমিকে তার সঞ্চয় জমা আছে ১০৫৩/- টাকা। তাহলে তার কাছে আমি আর ১টি কিস্তি হিসেবে ৬৪৪৫/- টাকা পাই। কিন্তু তার সঞ্চয় জমা দিলে তার নিকট আমি আরো পাই ৬৪৪৫-১০৫৩= ৫৩৯২/-

আমি কিন্তু তার এ টাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম এবং কাল কেয়ামতে তিনি এ টাকা না দিয়ে কিসের সনদপত্র চান; আশা করেছিলাম সেখানেই এর বিচার হবে। কিন্তু গত কয়েক দিন আগে আমাদের সাবেক মেম্বার ও বর্তমান চেয়ারম্যানের বড় ভাই জনাব মোহাম্মদ হানিফ ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম অন্য এক দরকারে। আমার দূরাবস্থা দেখে তিনিই বললেন, কার কার কাছে টাকা পাবেন আমাকে বলেন, দেখি কিছু করা যায় কিনা; ইনশা’আল্লাহ টাকা লয়ে দিবো। মহান রব তার উপর রহমত বর্ষন করুক। আলহামদুলিল্লাহ ইতিমধ্যে একজনের কাছ থেকে টাকা লয়ে দিতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। এখন এ ব্যক্তিতো শর্ত জুডিয়েছেন, তাকে সনদপত্র দিতে হবে, নতুবা তিনি লোন দিবেন না। তাই আমি মেম্বার সাহেবকে বলেছিলাম, আমি তাকে কোনরুপ সনদপত্র দিতে পারবো না; তাকে কিছু বইলেন না, সে এবং তার কর্মচারি মিলে (তার দোকানের কর্মচারির কাছেও উধারের কিছু টাকা পাই) এ টাকা খেয়ে ফেলুক। তাকে আমি অনুরোধ করেছিলাম, প্লিজ আমাকে সনদপত্র দিতে বইলেন না; কারণ আমি মানহানিকর কথা ও কাজ, এগুলো পারি না।তিনিও নিশ্চুপই ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে, সেদিন মসজিদে দেখা হলে মেম্বার সাহেব বললেন, কী করি, এ তো ফোন করে বিরক্ত করছে; বিষয়টির মীমাংসা চাচ্ছে।

(ঋণখেলাপী কর্তৃক ঋণদাতাকে নাজেহাল, এ পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করা যেতে পারে)

আসলে মিমাংসা চাচ্ছে না ছাই! মেম্বার সাহেব মিমাংসা করতে তাকে বাধ্য করেছে হয়তো। বিষয়টি যখন মানুষ জেনে গেছে এবং আমার এলাকায় বিভিন্নজনের কাছে যখন ফোন চালিয়ে এ বিষয়ে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি ও মেম্বার সাহেবকে দূর্বল দেখতে পায়নি; এবার সে ভদ্রলোক সাজতে ও আমার জন্য মায়াকান্না কাঁদতে পারছে আরকি হয়তো!! যাক এভাবেই আজকে আমি আমার মন্তব্য ও অনুমান পেশ করলাম; (আমি কারো বিষয়ে তেমন কোন অনুমান পেশ করি না সাধারণত, কারণ এগুলো সত্য হতে পারে আবার নাও হতে পারে।)

আর আমিও আমার এ দূর্বল ও মূল্যবান সময়ে এসব নিয়ে কিছুতেই লিখতাম না; কিন্তু যখনই মেম্বার সাহেব আমাকে বললেন, চলেন একসময় গিয়ে টাকাগুলো নিয়ে আসি। তখনই আমার মাথা ঘুরে উঠে; আর তাই এখন রাত ১টা বাজে, অথচ আমার ঘুম আসে না। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, চলতি মাসে চাউল কি দিয়ে কিনবো, সামান্য তরকারি কী দিয়ে কিনবো সে ব্যবস্থা আমার নাই। এ চিন্তায় এবং একটা চাকুরির আশায় আমি প্রহর গুনছি এবং পেটে রয়েছে আমার রোগ। আর সে মূহুর্তে আমি কিনা আমার বিদ্যুৎ খরছ করে ও ঘুম মেরে পোস্ট লিখবো!?

কিন্তু আমি অপমান সইতে পারি না!! মরার মুহুর্তেও মনে হয় পারবো না। আমার এ হাই রেসপনসেবিলিটির উৎস জ্বীন গঠিত কিনা, তা কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না; কারণ আমার কিছু চরিত্র যা সাধারণ মানুষের সাথে মিলে না।  তাকে সনদপত্র দেবো না বলেছি এবং ভেবে রেখেছি তার সামনে আর কোনদিন যাবো না। এখন না জানি মেম্বার সাহেব আমাকে বলেন! এ জন্য ভাবলাম বিষয়টি সকলের সামনে ওপেন করে দিই।

এখন আসুন তার কাছে আর এক কিস্তি হিসেবে এ ৬৪৪৫ টাকা যে পাবো, কিস্তির এ লোনটি তাকে কোন তারিখে ইস্যু করেছিলাম। তা দেখতে নিম্নে ফলো করুন-

[প্রয়োজনে হাতের আঙ্গুল দিয়ে বড় করে অথবা মোবাইলকে ল্যান্ডস্ক্যাপে রেখে পড়বেন অথবা গুগল ড্রাইব থেকে পড়বেন।]

 

 

এখানে ৪ নং ক্রমিকে দেখা যাচ্ছে লোনটি ০১/০৪/১৯ তারিখে তাকে দেয়া হয়েছে ও  দেখুনএ ক্রমিকে তার এ লোনের বিপরীতে তাকে ৬কিস্তি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এ হিসাবটি করা হয়েছিলো ১১/০১/২০২০ ইং তারিখে।

সম্মানিত ভিউয়ার, এবার এখানে লক্ষ করুন-

 

 

৩০/০১/২১ তারিখে সম্পন্নকৃত উপরোক্ত হিসাবের ২ নং ক্রমিকেও তার নামে ৬৪৪৫ টাকার কিস্তির এ লোনে তাকে ৬টি কিস্তি ঋণ খেলাপী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

(ঋণখেলাপী কর্তৃক ঋণদাতাকে নাজেহাল, এ পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করা যেতে পারে)

সম্মানিত ভিউয়ার, তাহলে স্পষ্টই বোঝা গেলো পুরো ১ বছরে তিনি এ লোনের বিপরীতে ১ কিস্তিও জমা দেন নাই। এটা কি তার অপরাধ ছিলো না? তিনিতো সফল ভাবেই তার ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

দেখুন সমিতি প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা ও প্রচুর পরিমাণ লোকসানে পতিত হওয়ায়, আমি রাগে দু:খে প্রায় সব ধরনের ডকুমেন্ট ফেলে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু এ ডকুমেন্ট গুলো আমার কাছে থেকে যাওয়ায়; আজ আমি প্রকৃত অবস্থা সমূহ তুলে ধরতে সমর্থ হলাম।

আর এভাবে করে অনেকেইতো বিভিন্ন অজুহাতে বা বই হারিয়ে গেছে বলে, আমার ১০/১৫ হাজার টাকার লোন আমাকে ৫০০০ টাকা দিয়ে আর দেন নাই বা এক একজন গড়েছেন আরো কত ইতিহাস।

শুনুন, ২য় পক্ষ, এ ব্যক্তি টিকে আমি ম্যানেজমেন্ট এর সহ সভাপতি হিসেবে মনোনিত করেছিলাম। পরবর্তীতে তাকে বরখাস্তও করেছি। কী কারণে বরখাস্ত করেছি, তা জানতে নিচের দিকে চোখ রাখুন। প্রয়োজনে হাতের আঙ্গুল দিয়ে বড় করে অথবা মোবাইলকে ল্যান্ডস্ক্যাপে রেখে পড়বেন অথবা গুগল ড্রাইব থেকে পড়বেন।

 

 

এখন আসুন, আমার ২য় পক্ষ ভাই, আপনার সাথে সংক্ষেপে কিছু কথা বলি-

১। আমার এলাকাবাসিকে সমিতি প্রতিষ্ঠার আহবানের আগে, আমার ও আপনার চাকুরির স্থল আই সি এস টির, আমার ল্যাব রুমে বসে বসে এ সমিতির গঠনতন্ত্র লিখছিলাম, ঠিক আছে না? আপনি এসে ও আমার মনোভাব বুঝে এ সমিতির সদস্য হতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন; আমি বার বারই আপনাকে ডিনাই করছিলাম, কারণ আপনার বাড়ি ছিলো অনেক দূরে, আর আমি চেয়েছিলাম প্রথমত আমার এলাকাবাসি থেকেই শুরু করবো। পরবর্তীতে কেন যেন আপনার আবেদনে রাজী হয়ে, আপনাকে সমিতির সহ সভাপতি হিসেবে মনোনিত করলাম। আচ্ছা এ সমিতি কি ১০/২০ জন লোক একত্রিত হয়ে, পরামর্শ করে আরম্ভ করেছিলো (?); না আমি গঠনতন্ত্র লিখেছিলাম ও সে গঠনতন্ত্রের আলোকে আপনাদেরকে (সকল সদস্য) দাওয়াত দিলে, আপনারা তাতে রাজি হয়েছিলেন? যদি তাই হয়, তাহলে আপনাকে সহসভাপতি এ পোস্টটি মূলত কে দিয়েছিলো? আমি? না, আমার এলাকায় ভোটা-ভুটির মাধ্যমে আপনি এ পোস্টে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন? এখন চারদিকে যেভাবে বলে বেড়াচ্ছেন, তাতেতো মনে হয়, আপনি মানুষের ভোটাভুটিতেই এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন; আর আমি এতে কিছুই না।

২। আপনাদের সকলের হাতেই আমার লিখিত এ গঠনতন্ত্র দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম এ গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই এ সমিতি পরিচালিত হবে; আপনারা মন্তব্য করুন ও পরামর্শ দেন। ব্যবস্থাপণা পরিষদের সকল সদস্যের হাতে এ বই প্রায় ৩/৪ মাস পড়েছিলো। আপনারা খুব একটা মন্তব্য দেননি (যা দিয়েছিলেন তা সংশোধিত হয়েছে) এবং এ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাজি থেকেই আপনারা সমিতিতে আমাকে সহযোগিতা করছিলেন। অর্থাৎ এ সংবিধানের ২টি ধারাতে, আপনাদেরকে আমি বরখাস্ত করতে পারবো কিনা সে বিষয়টি বিবৃত হয়েছে (হ্যাঁ পারবো এবং তা ছিলো স্পষ্ট)। আপনারা কি সংবিধানের এ শর্তে রাজি থেকে আমার সাথে কাজ করতে ছিলেন না? সম্মানিত ভিউয়ার আপনারা   এখানে ক্লিক করে   এ গঠনতন্ত্রের ২১১ ও ২১৪ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ৬.১৩৮ ও ৬.১৪০ নং ধারায় তা দেখতে পারেন।

যাহোক সরকারি রেজিস্ট্রেশনের আগ পর্যন্ত এ গঠনতন্ত্রকে ভিত্তি করেই আমি এ সমিতি চালাবো, যা আপনাদের মিটিংয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলাম ও আপনারাও তা দিয়েছিলেন। আর এ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, গঠনতেন্ত্র উল্লেখিত আইন সংশোধনের এখতিয়ার ছিলো শুধুমাত্র বার্ষিক সাধারণ সভার মিটিংয়ের মাধ্যমে। আর কোন ভাবে নয়। হ্যাঁ যদি এ মিটিংয়ের মধ্যে কোন যুক্তিমূলক পরামর্শ দিতেন, তবে তা নিয়মানুযায়ী অবশ্যই সংশোধিত হতো। পরবর্তীতে এ গঠনতন্ত্রের ৬.১৩৮ ধারা ও ৬.১৪০ ধারা মোতাবেক অর্পিত অধিকার বলে, আমি আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করে সমিতি থেকে বরখাস্ত করলাম।

সম্মানিত ভিউয়ার আপনারা উপরে তাকে পদত্যাগের যে নোটিশ দিয়েছি, তাতে ফলো করলে দেখতে পাবেন, বরখাস্তকালিন তার নিকট সমিতির অপরিশোধিত ঋণ হিসেবে সমিতির পাওনা ছিলো, ৮৭,৭৪১/-টাকা এবং তার সঞ্চয় জমা ছিলো ৮৫,০০০/- টাকা। আর খেলাপী ঋণ না দিয়ে এভাবে সঞ্চয় জমা রাখার নিয়ম আমাদের সমিতিতে ছিলো না। যা ছিলো সমিতির উপ-আইনের বিপরীত এবং তার সঞ্চয় জমার চাইতে ঋণের পরিমাণ ছিলো বেশি। তাহলে আপনি (২য় পক্ষ) বলুন-

ক) সমিতি থেকে লোন পেতে হলে, সমিতিতে সঞ্চয় জমা রাখতে হয় এবং কেবলমাত্র সঞ্চয়ের ৫ গুণ টাকা লোন হিসেবে আবেদনকারী পায়। আপনারতো সঞ্চয় থেকে লোনের পরিমাণ বেশি ছিলো, আপনি কিভাবে লোন পেতেন, সহ-সভাপতি বলে, এই না?

খ) লোন পেতে হলে জামিনদার লাগতো, অভিভাবকের স্বাক্ষর লাগতো। আপনার কি এসব লেগেছিলো? বিনা শর্তে, বিনা জামানতে (আমার সদস্যদের নিকট আমি দোষী সাব্যস্ত হয়ে, যেহেতু আমি আইন তৈরী করে আমিই তা মানতে পারিনি) আপনাকে প্রায় ৬/৭ বছর পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ টাকা কে লোন দিয়েছিলো? আমি না? আর এ সুবিধাটি পেয়েছিলেন কিভাবে? আপনি সহ-সভাপতি হয়ে না?

গ) এখনো যে লোনটি চলমান রয়েছে, তা হচ্ছে একটি মাসিক কিস্তির লোন। যার লভ্যাংশ হচ্ছে ১৬%। কিন্তু আপনি কি আমায় মাসিক হারে কোন লোনের কিস্তি জমা দিতেন? আপনি জমা দিতেন, দৈনিক ভাবে। যখন ১টি কিস্তির সমান হতো তখন ঐ কিস্তিটি কাটা হতো। আপনি কি জানতেন না, দৈনিক কিস্তির লোনের লভ্যাংশ অনেক বেশি ছিলো? যেখানে আপনি ১৬% লাভে পেয়েছিলেন, সেখানে হয়তো ২৫% লভ্যাংশ আপনাকে গুনতে হতো। এছাড়া দৈনিক লোনের এতো লম্বা ডিয়োরেশন চালুও ছিলো না সমিতিতে। তাছাড়া সময় মতো আপনি কোন লোন পরিশোধ করেননি। করলে আপনি এভাবে ঋণ খেলাপী হতেন না। সম্মানিত ভিউয়ার আপনারা উপরে দেখতে পেয়েছেন না, পুরো ১ বছর যাবত তিনি কোন লোন জমা দেননি। আর এতো সুবিধা আপনি পেলেন কিভাবে? শুধুমাত্র সহ-সভাপতি হওয়ার কারণে নয়?

ঘ) আপনি আমার বাড়িতে অডিট করতে আসতেন প্রায় প্রতিমাসে একবার। শেষের দিকে অবশ্য এমদাদ স্যার কেও নিয়োগ দেয়াতে একটু কম আসতেন। এতে আমি আপনাকে প্রতিবার ৫০০/-টাকা নগদ দিতাম এবং আপনার পিছনে আমার খরছ হতো আরো ৫০০/- টাকা। এতে আপনার উপকার হতো না?

ঙ) আপনাদের এ ব্যবস্থাপনা পরিষদকে আমি বহাল রেখেছিলাম আমাকে সহযোগিতা করার জন্য। এখানে যারা আমাকে টাকা দিয়েছিলো, তারা এতো কিছু চায়নি। ব্যবস্থাপনা পরিষদ, অডিট পরিষদ, আরো কত কি; এতো খরছ, তা আমার একক ফর্মূলা ছিলো না? সমিতিটার প্রাথমিক অবস্থায় সব বোঝা আমি একা মাথায় নিয়ে ছিলাম না? আর আপনি নিজকে যে সহ সভাপতির কথা বলে, মানুষকে বোঝাচ্ছেন, তাতো সে পর্যায়ের কোন সমিতি আমাদের ছিলো না। থাকলে সদস্যরাও আপনাদেরকে দেখে টাকা দিতো, আর সমিতির সমস্ত ব্যয়ভার ও লোকসান তখন সবাইকেই নিতে হতো। কিন্তু এখন তারা কোথায়; সমিতির সমস্ত লোকসান শুধু আমার মাথায় কেন? সদস্যরা শুধু আমার কাছে টাকা চায় কেন? তাহলে নিশ্চয় বুঝা গেলো, আমাদের সমিতি সে পর্যায়ে যায়নি। হ্যাঁ আমি চেষ্টায় ছিলাম। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আপনাকে সহ সবাইকে শুধু আমাকে সাহায্য করার জন্যেই ডেকে ছিলাম। এবং আমিই সবাইকে একক ভাবে আহবান করেছি, তাই না? আবার আমি নিজেই যখন দেখতাম যে, সরকারি রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার বা একটা উপযুক্ত মানে পৌছানোর সময় হয়েছে, তখন দায়িত্বও ভাগ করে দিতাম এবং যাবতীয় দায়-দায়িত্বের ভারও আপনাদেরকে তখন বইতে হতো। কিন্তু তার আগেই আমাকে অমান্য ও বিরোধিতা এবং নিজকে দামী বানানোর প্রচেষ্টা শুরু করলেন? এখন যখন সমস্ত ভার ও রিস্ক আমি বহন করি, তখন আপনার সহ-সভাপতির পদটি কি আর ঐভাবে একক মর্যাদা পূর্ণ হয়? যা আপনি চারদিকে বলে বেড়াচ্ছেন?

চ) আপনি অডিত করতেন বা সমিতির হিসাব পত্র যাচাই করতেন। বলেন এ ফর্মুলাটি কি আমি আপনাকে শিখিয়ে ছিলাম, না আপনি আমাকে শিখিয়ে ছিলেন? আমার ফর্মূলাতে, আমারই সম্পাদিত হিসাবে, আপনারা শুধু ক্যালকুলেশন গুলো ঠিক আছে কিনা, তাইতো যাচাই করতেন এবং কোন একটি বিষয় আমি না বললে সেটি হয়তো রেখেও চলে যেতেন। ঠিক আছে না, আমার কথা গুলো?

ছ) পরবর্তী সময়ে অডিট করতে অনেক সময়ই দুপরের দিকে আসতে চাইতেন না। রাতে আসতেন। এসেও আবার মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং কয়েকবার বলেছেনও আপনার ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আমাকে আপনার দোকানে অডিট সম্পাদন করতে। তাহলে আপনি যদি আমার হিসাব যাচাই করার জন্য সময়ই না দেন, তবে সমিতির প্রতি আপনার আন্তরিকতা কতটুকু প্রকাশ পেলো? এটা হয়তো দেখলেন যে, এমদাদ স্যারকে নিয়োগ দেয়ায়, আপনার প্রতি আমি চিরদিন নির্ভর না করে অন্যজনকেও দায়িত্ব দিতে পারি, তা বুঝতে পেরে। এ জন্যে না? তাহলে কেন এমনটি করতেন? বিষয়টা এভাবে আমি বলতাম না, যদি না পরবর্তীতে আপনি আমার সাথে তর্ক করতেন।

জ) এখন বলেন, সেদিন যখন আপনার দোকানে আমি বললাম, আপনি সহ যারা ঋণ খেলাপী রয়েছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপনাদের সকলের সঞ্চয় জমা থেকে আমি ঋণ কর্তন করে ফেলবো। কারণ ঋণ খেলাপীও হবেন, আবার মানুষের সামনে মোটা অংকের সঞ্চয় দেখিয়ে সাধুবাদ কুড়াবেন ও লোন পাওয়ার কৌশল ওকে রাখবেন। এ ধরনের অপ-কৌশল আমি হতে দেবো না।

তখন আমার সাথে আপনি এতো তর্কে জড়ালেন কেন? এটা কি একটি প্রতিষ্ঠান ছিলো না? এটা সরাসরি সমিতির উপ-আইনের ৬.১৩৮ নং ধারার বিপরীত ছিলো না? প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে, তার অধ:স্তন কর্মকর্তা যদি তর্ক-বিতর্ক করে, তাও বিধি-বিধানের বিপরীতে; প্রতিষ্ঠান প্রধানকে যদি কোন অধ;স্তন কর্মকর্তা মানতে না চায়; তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠান প্রধানের দ্বারা কি ঐ প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব হয়? এমতাবস্থায় এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় তখন প্রতিষ্ঠান প্রধানের কী করা উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?

বলবেন কি, সমিতিতে আপনি আমার চাইতে বেশি গ্রহণযোগ্য কী করে হলেন যে, আমার সাথে তর্কে জড়াতে আমাকে অপমান করতে আপনি পিছপা হলেন না? মানুষকে কি এই বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, আপনিই সমিতির মেইন মেইন কাজ গুলো করছেন? আপনাকে ছাড়া সমিতি চলবে না। যেহেতু আপনি প্যান্ট-শার্ট পরেন ও হোন্ডা দৌড়িয়ে আসেন? না হয় সমিতির রুল ভঙ্গ করে আমার সাথে তর্কে জড়ানোর ও সমিতির উপ-আইনের বিরোধিতা করার এতো সাহস আপনি কোথা থেকে পেয়েছিলেন?

যেই আমি আপনাকে এতো সুযোগ দিলাম, সেই আমাকেই আপনি উপেক্ষা করা শুরু করলেন? সবার সাথে আপনি বলে বেড়াচ্ছেন, আপনি সহ-সভাপতি ছিলেন। আরে ভাই এ পদটিতো আপনাকে আমি দিয়েছিলাম এবং বর্তমানে আপনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে বরখাস্ত হয়েছেন। তাহলেতো  আপনার লজ্জ্যা থাকা উচিৎ ছিলো। তা না করে আপনি বলে বেড়াচ্ছেন আপনি সহ-সভাপতি? গায়ের জোর আর অপকৌশলেই কি সব কিছু ম্যানেজ করবেন নাকি? আমি বা আমাদের সমিতি যদি দূর্বল না হতো, তাহলে আপনি সমিতির কনিস্টিটিউশন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের এভাবে বিরোধিতা করতে পারতেন নাকি? তাছাড়া আপনার এ পদবীতো আর মানুষ দেয় নাই, তাহলে আমাকে এবং সমিতির উপ-আইনকে কেন ডিনাই করা শরু করেছিলেন? (সম্মানিত ভিউয়ার, এ পরিস্থিতিতে তাকে বরখাস্ত করা কি আমার জন্যে অন্যায় হয়েছে? আশা করি আমায় পরামর্শ দিবেন।)

(ঋণখেলাপী কর্তৃক ঋণদাতাকে নাজেহাল, এ পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করা যেতে পারে)

ঝ) আসুন এখন আসি বর্তমানকার প্রসঙ্গে, আমার প্রায় সবগুলো টাকা আপনি দেরি করে হলেও দিলেন, কিন্তু সেদিন আপনার কর্মচারির কাছে আমার উধারের টাকা পেতে আপনাকে সহযোগিতা করতে বললে, আপনি বললেন, এ বিষয়ে আপনি জানেন না; আমি নাকি আপনাকে না জানিয়েই টাকাটা দিয়েছি, তাই আপনি এর কোন দায়ভার নিতে পারবেন না।

আচ্ছা এখানেও আপনি আমাকে বোকা সাজানোর চেষ্টা করছেন কেন? আমি বুঝি আপনার কর্মচারিকে আপনার অমতেই টাকাটা দিয়েছি? আবার পরে একদিন এসে বললেন, আমি যদি আপনাকে একটা সনদ পত্র দিই, তাহলে আপনি তার টাকা সহ দিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। আপনার এ কথায় আমি বললাম, আপনি কেমন সনদপত্র চান লিখে আনেন, আমি সই দিয়ে দিবো। আপনি বললেন, না আমাকেই লিখতে হবে এবং তাতে বন্ধনের ল্যাগো থাকতে হবে। আমি বললাম সাদা কাগজে লিখে দেই, আপনি তাতেও রাজি হলেন না। আমি আপনাকে বললাম, দেখেন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে আজ প্রায় ১ বছর। তাছাড়া এ প্রতিষ্ঠান সমিতি হিসেবে মর্যাদা পায়নি, সে পর্যায়ে যায়নি।

এখন এ লোগোতে এ ধরনের বানোয়াট কিছু লিখা এবং সনদপত্রের মতো করে আপনাকে দেয়া, এটা এ লোগোর জন্য একটা মিথ্যা প্রমাণিত হবে না? যেহেতু এ লোগো যদিও আমি ব্যবহার করছি, তবুও এটাতো সমিতির কোন লোগো নয়। এটা কি দেশিয় আইন অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ হবে না এবং পরবর্তীতে আমার এ লোগো যদি কোথাও ব্যবহার করতে যাই, তখন যদি এক্সেপটেবল না হয়? তাছাড়া আপনি এ সনদপত্র দিয়ে করবেনটা কী? শুধু শুধু  আমায় কেন হয়রানি করবেন? তাছাড়া আপনি জানেন, দেশে কী আইন আছে বা নাই, সেটা সাধারণত আমি ঐভাবে দেখিনা। আসলে আমি আমার ব্যক্তিত্বের কারণেই অযুক্তিক বা এ ধরনের কাজগুলো করতে পারি না।

আমি আপনাকে বিভিন্ন ভাবে বোঝালাম। কিন্তু আপনি ঐ এককথাতেই থাকলেন। অযথা আমাকে হয়রানি করবেনই করবেন। আর এ দিকে লোনের টাকা না দেয়ার একটা উপায় খুঁজে পাবেন।

ঞ) আচ্ছা ভাই বলেন, আপনাকে এ সার্টিফিকেটটি দিলে আপনি নিজকে নিরাপদ ভাবতে পারেন, আর আমার হক না দিয়ে, টাকা গুলো আঁটকিয়ে রেখে বুঝি নিজকে আরো কম্পোটেবল ভাবেন? টাকা পাবো আমি, আমাকে টাকাটা দিবেন; দেড় বছরের জন্য লোন নিয়ে প্রায় ৩ বছরের মাথায় মেম্বার সাহেব আপনাকে ফোন করতে হলো কেন? আর মেম্বার সাহেব ফোন করার পরে, প্রথমে উনার সাথেও একটু খারাপ ব্যবহার করলেন, কিন্তু উনার পরিচয় জানার পরে এবার আপনার ফোনের আধিক্য বেড়ে গেলো। বিষয়টি মীমাংসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন? মানুষকে ফোন করে হয়তো বিভিন্ন কিছু বোঝান। কী কী বোঝান, এখানে বলেন, সকলে বুঝুক। আরে ভাই, আপনাকে আমি অনেকগুলো টাকা দিয়েছি, এমন কোন ডকুমেন্টও নিইনি, আর আপনি এ কয়টা টাকার জন্য সার্টিফিকেট চান!? এতো ফোনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন!!?? আমি কি বাঘ, না ভাল্লুক? আপনাকে কখনো কী কোন ধরনের মনেকষ্ট দিয়েছি? আসলে মূল বিষয়টা কী? কেন আমাকে হয়রানি করছেন? এমনিতেই কি কম হয়রানি করছেন নাকি? যেহেতু এ লোন পরিশোধের নিয়ম ছিলো মাসিক ভাবে; আপনি মাসিক ভাবে কোন কিস্তি পরিশোধ করেননি। এভাবে আমার কাছ থেকে যত লোন নিয়েছিলেন প্রায় সবগুলো লোনের প্রায় একই কৌশল ছিলো আপনার। দেড় বছরের লোন প্রায় ৩বছর গড়িয়েছে। অল্প অল্প করে এ টাকা ৩ বছরে মিলে আদায়ে আমার কি কোন কষ্ট হয়নি? আমি কি এ অভিযোগ গুলো করেছি কারো কাছে? না আপনার সাথে কোন মন্দ ব্যবহার করেছি? আমার বিষয়ে আপনি যত জনকে বলেছেন, আমি কি কাউকে বলেছি বা একজনকেও কি ফোন করেছি? আমি একজনকেও ফোন করিনাই। কারণ আমি কোন প্রহসন কিংবা, কোন অভিনয়ের লোক নই। আমার ভালোবাসা কখনো প্যাঁচে প্যাঁচে হয়না; শুধু মুখের মধ্যেই মানুষকে স্থান দিই না। কারণ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আমার বিকাশ নাম্বার আছে, আপনি সেখানে টাকাটা পাঠিয়ে দিলেইতো হতো। এতো কিছু কেন, এতো ফোনের কী দরকার ছিলো? গতকাল আমি মেম্বার সাহেবকে বললাম, এ আসলে টাকাটা দিবে কিনা? মেম্বার সাহেব বললো, আপনাকে সহ আমাকে সহ যেতে হবে। আমি বললাম, আপনার যাওয়ার দরকার কী? উনি বললেন, পরে যদি কোন ঝামেলা করে। বেশকিছু দিন আগে আপনি আমার শালার নিকট ফোন করে বলেছিলেন, আমার টাকা দিবেন না, দিলেও অনেক কষ্ট দিয়ে দিবেন; যখন আপনাকে আমি ম্যানেজমেন্ট থেকে বরখাস্ত করেছিলাম। অতএব এ সার্টিফিকেট চাওয়া বা ৩ বছর পর্যন্ত আমাকে কষ্ট দেয়া, এগুলো হচ্ছে, শুধু আমাকে কষ্ট দেয়ার একটি প্রহসন, ছলনা, কূট-কৌশল, তাইনা? এ বিষয়ে আমি অবশ্য নিম্নে একটি মন্তব্য দিয়েছি, সকলকে পড়ার আগাম অনুরোধ করছি।

ট) সত্য করে বলবেন কি, আপনার জীবনে এ ধরনের সার্টিফিকেট কেন প্রয়োজন? অথবা আমার পক্ষ থেকে আপনি কেমন ভয় করছেন? কোন প্রতিষ্ঠান কি এ ধরনের কোন সার্টিফিকেট দেয় নাকি? লোন নিয়েছেন, লোন দিবেন, এতে এতো শর্ত জুড়িয়ে, যে আপনার উপকার করলো; তার দুর্বল মুহুর্তে আপনি তাকে কেন তার প্রাপ্য টাকা গুলো আঁটকিয়ে রাখবেন?

ঠ) বলুন, সমিতির রুল ভঙ্গ করে, নিজের সঞ্চয় থেকে খেলাপি ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে সমিতি প্রধানের সাথে তর্ক-বিতর্ক করা আপনার জন্যে অন্যায় হয়েছিলো কিনা?

ড) ঋণ প্রাপ্তিতে, ঋণের কিস্তি পরিশোধে আপনি অপরাধ করেছিলেন কিনা? বাড়টি সুবিধা নিয়েছিলেন কিনা?

ঢ) তাহলে আপনাকে পদত্যাগ করতে সুপারিশ করা, এটা কি আমার অন্যায় হয়েছিলো? আমি আপনাকে সমিতির রুলস এর বাহিরে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করেছিলাম? পদত্যাগ করতে বলার পরে আপনি আমার বিরুদ্ধে এতো বিদ্রোহী হলেন কেন? বিষয়টি নিয়ে আপনি আমার এলাকার বহু লোককে ফোন করেছিলেন এবং মাদ্রাসার মধ্যে সকলে মিলে আমায় অপমাণও করেছিলেন। আমার উপকার সমূহের কি একটুও মনে পড়েনি আপনার?

ণ) সর্বপরি বলেন, আমার সাথে তর্ক করে, অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে সমিতির টাকা ব্যবহার করে এবং লোনের কিস্তি প্রদানে অনিয়ম করে, আপনি অপরাধ করেছিলেন কিনা? অর্থাৎ এ বিষয়ে আপনি অপরাধী কিনা?

ত) যদি অপরাধীই হয়ে থাকেন, তাহলে মানুষের কাছে ফোন করে করে কিসের এতো সাধুবাদ গাণ (?) এবং কেন এতো সাধু হিসেবে সমাজে পরিচিত হয়ে থাকতে চান? আর কেনইবা আমার নিন্দাবাদ করেন? আমার দ্বারা কি আপনার একটুও উপকার হয়নি? অপরাধ করেছেন আপনি, এখন আপনি নিশ্চুপ থাকবেন; এটাইতো নিয়ম ছিলো তাইনা? কিন্তু তা না করে এসব বিষয় নিয়ে এতো ফোন করেন কেন, মানুষের কাছে? আমাকে সোজা পেয়েছেন? মানুষকে সাত-পাঁছ বুঝিয়ে আমাকে অপমানিত বা ভূল বুঝিয়ে রাখবেন মানুষের কাছে? যে নীল নকশায় পড়েছিলাম গত প্রায় ২২টি বছর? আবারো কি আমার বিষয়ে এ ধরনের ভূল ব্যাখ্যা দিতে চান মানুষের মাঝে?

থ) বুঝতে চেষ্টা করেন, যে অপরাধী, যাকে বরখাস্ত করেছি, তাকে আবার প্রশংসাপত্র দিবো, এটা কি হয়? সার্বিক বিবেচনায় আমার নিকট আপনি অপরাধী হিসেবেই সাব্যস্ত; তাহলে অপরাধ করার করলেন, এখন উল্টো আপনাকে আবার সার্টিফিকেটও দিতে হবে বুঝি আমাকে? ঋণ খেলাপী আপনি, নিজের প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অপমানিত করলেন আপনি; উল্টো এবার সার্টিফিকেটও আদায় করে নিবেন বুঝি? হত্যাতো করলেনই, আবার সংবিধানও প্রণয়ন করবেন বুঝি বিচার করা যাবে না? বিষয়টা এ রকম না? আপনাকে আমি অনেক কাছের লোক বানিয়ে ছিলাম। আমি বানিয়ে ছিলাম। মানুষ আপনাকে এ পদবী দেয়নি, আমি সুযোগ করে দিয়েছিলাম; অথচ আপনি আমারই বিরুদ্ধে লাগলেন? যে আইন গুলোকে মান্য করবেন বলে, আমাকে মেনে নিবেন বলে আমার সাথে কথা দিয়ে, চুক্তিবদ্ধ হয়ে আসলেন আমার অনেক ত্যাগ আর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে; আর এসে সে আইন গুলোরই বিরোধিতা শুরু করলেন? যার হাত ধরে আসলেন, তাকেই অপমান করা, তারই বিরোধিতা করা শুরু করলেন? অতএব আপনাকে সনদপত্র দেয়া, এটা আমার জন্য অপমান নয়? পাওনা টাকা আদায়ে আমাকে সনদপত্র দিতে হলো; তাহলে যে টাকা দিয়েছে, যে আপনার উপকার করেছে; সে হলো হক; আর এ হক কি তখন অপমানিত হয়ে গেলো না? আরে ভাই, আপনি বলছেন, আমার সাথে আপনার আর কোন লেনদেন নেই, এ মর্মে লিখতে; যদি তা এ মর্মেও হয়, তবে তা লোন আদান-প্রদানের পাশ বই বা এ ধরনের ডকুমেন্টের মধ্যে হবে বা সাদা কাগজে হবে এবং আমি পরবর্তীতে আপনার বিরুদ্ধে আইন-আদালত করতে পারি বা শক্তি প্রয়োগ করতে পারি, বা আমি বৃথা টাকা দাবী করতে পারি; শুধু এ ভয় থাকলে আপনি এ ধরনের দাবী করতে পারেন; নতুবা নয়। আর আমি এ ধরনের কোন ব্যক্তি নই। আপনি কি আমায় এ রকম ভাবেন? আমি বুঝি আপনার জন্য হুমকি হবো পরবর্তীতে? বৃথাই আমাকে হয়রানি করতে চাচ্ছেন না আমাকে? আপনি জানেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোন নিয়ম ছিলো না এবং কেউ এ ধরনের দাবীও করেনি। আবার প্রতিষ্ঠানটি এখন বন্ধ। তাছাড়া আপনাকে এ ধরনের কিছু দিয়ে যে, আমাদেরকে অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় খাড়া করবেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কোন পরিচিতি নেই। ফলে আমার এ ধরনের ডকুমেন্ট দেয়াটাই, আমাদের একটা মিথ্যা পরিচিতি হয়ে যাবে না? শুধু আমরা কেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান কোন প্রতিষ্ঠানেরই এ ধরনের নিয়ম আছে বলে আমার জানা নেই। ফলে আমি বলেছিলাম আপনাকে কোন সনদপত্র দেবো না। তাছাড়া এটা আপনার বাড়টি বাড়াবাড়ি ছাড়া অথবা ঋণ পরিশোধ না করার একটা ফলিসি ছাড়া আর কিছু না। ঠিক আছে না?

দ) তাহলে মানুষকে উপকার করার পরিণতি বুঝি আজ এমন হয় ভাই? আমিতো আপনার সাথে একসময় চলেছিলাম, সেই স্মৃতি ধারন করে কখনো কাউকে আপনার বিরুদ্ধে এতো কথা বলি না? কিন্তু আপনার কী হলো (?), খুব চালাক আপনারা তাই না? এ জন্যেই বুঝি আপনাদের বন্ধুত্ব শুধু মুখে? আর খুব কৌশল করতে পারেন; এ জন্যে বুঝি শুধু ফোন করেন? বা আকারে-ইঙ্গিতে কথা বলেন?

ধ) যাক ভূল হলে আমায় মাফ করবেন। আমি আপনাকে আগের মতোই ভালো বাসবো; শুধু একটু দূরে থাকতে চাই। আপনি বা আপনারা ভালো থাকুন। আলমগীর ভাইকে আমার সালাম জানাইয়েন। মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে এ জগতে আমি চলতে চাই না বা জীবন থেকে মরনে গড়াতে চাই না। পারবেনতো আমার জন্য দোয়া করতে?

(ঋণখেলাপী কর্তৃক ঋণদাতাকে নাজেহাল, এ পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করা যেতে পারে)

মন্তব্য:

সম্মানিত ভিউয়ার ও এ বাস্তব গল্পের পাঠকবৃন্দ, বেলায়েত স্যার আমার এ লোন বা আমার অন্যান্য লোনের কিস্তি পরিশোধে আমাকে এতো কষ্ট দেয়া বা সার্টিফিকেট চাওয়ার পিছনে মূল কারণ কী বা কী কী বলে আপনারা মনে করেন। দেখেন সার্টিফিকেট আমি তাকে দিচ্ছি না, সেটা মূল নয়; মূল হচ্ছে সার্টিফিকেট কেন চেয়েছে, সেটা মূল। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, সন্ত্রসী মূল নয়, গড়পাদার হচ্ছে মূল। কারণ তাকে কষ্ট করে সার্টিফিকেট দিলাম হয়তো, কিন্তু তিনি তখন আমাকে হয়রানির আরেকটি নতুন ফন্দি হয়তো বের করবেন। কারণ এ সার্টিফিকেটতো তার জীবনে এমন কোন প্রয়োজন নেই এবং আমি তার জন্য হুমকিও নই, তার মনের উদ্দেশ্য হচ্ছে হয়তো আমাকে কষ্ট দেয়া।

এবার আমার কাছ থেকে এ বিষয়ে আমার ধারনা শুনুন, বেলায়েত স্যারকে সমিতিতে নিয়োগ দেয়ার সময় বলেছিলাম, তাকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেবো এবং স্থায়ী ভাবে তিনি থাকবেন। বিশেষ কোন কারণ না থাকলে কখনো বিদায় করবো না। তাই সে যেন মনেপ্রাণে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিষ্ঠা করতে প্রচেষ্টা চালায়।

সে অনুযায়ী সে মোটামুটি কাজও করে যাচ্ছিলো। যদিও অনেক ক্ষেত্রে তাকে লোন প্রদান ও এর কিস্তি আদায়ে সমিতির রুল সকল ক্ষেত্রে হয়তো এপ্লাই করতে পারছিলাম না। তাছাড়া সে হচ্ছে ব্যবসায়ি। সে সমিতির পুঁজি, যে কোন ওয়েতে হোক তার ব্যবসার কাজে চাইবেই, এটা অনেকটা স্বাভাকি এবং চেয়েছেও, আর আমি দিয়েছিও। তবুও কাজ মোটামুটি চলছিলো।

কিন্তু যখন আমি আই সি এস টির আরেক টিচার জনাব এমদাদুল হক চৌধুরীকে (বি এস সি ইঞ্জিনিয়ার) তারই মতো আরেক অডিটর এবং পরবর্তীতে একই কলেজের আরো একজন টিচার জনাব মো: আবু বকর ফরহাদ (ম্যাথের উপর অনার্স-মাস্টার্স) স্যারকেও অডিটর হিসেবে নিয়োগ দেই; তখন অডিট কার্জে বেলায়েত স্যারের অডিট করতে আসার পরিমাণ অনেকাংশেই কমে যায়। আপনারা আগেই শুনেছেন, প্রত্যকটি অডিটের ভাতা ছিলো ৫০০/- টাকা এবং একদিন দুপরে অডিট করতে এলে, পরবর্তী দিন সকালে অডিট কার্য শেষ হতো। এবং এ ধারা অব্যাহত থাকলে ও সমিতি টিকে থাকলে অবশ্যই, বেলায়েত স্যারের উপর অনেকগুলো দায়িত্ত্ব অর্পিত না হয়ে, তা বিভাজন হয়ে যেত; ফলে তার রুটি ও রুজি বা সম্মান প্রাপ্তি কমে যেত এবং হচ্ছিলোও তাই। যেখানে সে প্রতি মাসেই আমার বাড়িতে (সমিতির অস্থায়ি অফিস ছিলো আমার বসত ঘর) ২ বারের মতো আসতো এবং সম্মানী স্বরুপ নগদে পেত ১০০০/- টাকা, সেখানে এখন তার প্রতি মাসে আর অসতে হয় না। এতে সে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট হলো এবং ভবিষ্যতের বিষয়ে হয়তো সন্দিহান হলো যে, সমিতি থেকে সুবিধা সে অব্যাহত ভাবে পাবে কিনা আসলে। বলতে বাধা নেই, এভাবে অনেক যোগ্য লোকই আমার সমিতিতে এসেছিলো, কিন্তু আমার মনে সত্যের ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দৃঢ় অবস্থান দেখে, তাদের স্বার্থসিদ্ধি হবে না দেখে নিজেই বিদায় নিয়েছিলো তারা। কারণ তাদের ধারণা ছিলো হয়তো এটা কোন সাওয়াবের প্রতিষ্ঠান নয়। এটা হচ্ছে ধান্দা করার প্রতিষ্ঠান। তাই ধান্দা যখন হবে না, তখন এখানে থেকে আর লাভ কী? তাছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিষদের অনেক গুলো সদস্যকে আমি নিজেই অব্যাহতি দিয়েছিলাম এবং সমাজে তারা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে করেছিলো হয়তো প্রপাগান্ডা বা মিথ্যাচার। আমি দেখলাম, সবাই শুধু নিজ স্বার্থেই আমাকে বা সমিতিকে ব্যবহার করতে প্রচেষ্টা চালায়। এ যেন সবাই পেয়েছে তেলের খনি, আর আমি পেয়েছি চোরের খনি, এ রকম একটি অবস্থা। পরবর্তীতে অবশ্য আমি মনে মনে সিদ্ধান্তও নিয়ে রেখেছিলাম, ম্যানেজমেন্টে কোন ব্যবসায়ি সদস্য রাখবো না। মহান রব ধীরে ধীরে এগুতেও দিচ্ছিলেন। কিন্তু পৃথিবীতে করোনা আসার পরে এবং ব্যবসায়ের প্রতি আমার অতি আগ্রহ ও আমার অতি উচ্চ মানসিকতার কারনে হয়ে গেলো সব এলোমেলো।

এলোমেলো হওয়ার পিছনে অবশ্য আরো অনেক গুলো কারণ ছিলো; তার মধ্যে এটাও একটি যে, ব্যবস্থাপনা পরিষদ থেকে আপনাদের ব্যবসায়ি সদস্য সবাইকেই যখন বরখাস্থ করলাম; আপনারা তখন সবাই মিলে এ সমাজের অনেককেই হয়তো আমার বিরুদ্ধে নেগেটিভ কিছু বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। কত জনের কাছে ফোন দিয়েছিলেন, আর কতজনকে ইশারা ইঙ্গিতে বা উপস্থিত বুঝিয়েছিলেন, তা আমি বুঝতে চেষ্টা করিনি। কারণ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আমি গড়তে চাইনি যে, প্রশাসনের পক্ষে এক গ্রুপ থাকবে; আর এর বিপক্ষে আরেক গ্রুপ থাকবে। কেউ অযুক্তিক সুবিধা পাবে, আর কেউ অযুক্তিক ঘৃণিত হবে। আর এ অবস্থাটি কম-বেশি বর্তমানে প্রায় সব গুলো প্রতিষ্ঠানে বিরাজমান। যা হোক আপনাদের এ ঘোলাপানিতে পড়ে গিয়েছিলো হয়তো, আমি যাদেরকে সম্মান করতাম বা এখনো করি সে লোক গুলো। যেহেতু আমি এ বিষয় গুলো নিয়ে ফোনে বা ব্যক্তিগত ভাবে একজনকেও কিছু বলিনি। ফলে বার্ষিক সাধারণ সভার মিটিংয়ের মধ্যে করতে হলো তাদের সাথে তর্ক। যা আমার ব্যক্তিত্ত্বের উপর প্রচন্ড আঘাত হেনেছিলো। সবাই আমাকে শুধু একটি বিষয়তেই দোষী করলো, আমি একা কেন, আপনাদের সবাইকে বরখাস্ত করলাম!? আমিতো এবার অনেক বড় হয়ে যাচ্ছি; কাউকেইতো মানি না। একে একে গুরুত্বপূর্ণ ৩ জন সদস্যকে অব্যাহতি দিয়েছি। কিন্তু একজনও বললো না, আপনারা আসলে সমিতির ক্ষতি করতেছিলেন কিনা!? সমিতিকে বা সমিতির অর্থকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন কিনা। যদি সাহস থাকে বলেন, কাকে কী জন্য বিদায় করেছি, সবগুলো ডকুমেন্ট ধ্বংস করলেও, এ ডকুমেন্ট গুলো আমি রেখে দিয়েছি। অতএব প্যাঁচে ফেলে, আমায় অপমাণ করার সুযোগ খুব একটা নেই।

আমার মুরুব্বিরা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হচ্ছে কিনা, কার দ্বারা ক্ষতি হচ্ছে, আর কার দ্বারা প্রতিষ্ঠানের উপকার হচ্ছে, সেটাকে বড় করে দেখেনি; পক্ষান্তরে দেখতে পেয়েছে, আমি অনেক বড় লোক হয়ে যাচ্ছি! আপনারা বোঝাতে পেরেছিলেন ভালো এইতো? আরে ভাই, আমিতো সংবিধান অনুযায়ী, সমিতিরি স্বার্থে কাজ করেছি। সমিতির স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে আমি সকলের রোষানলে পড়েছি, এখানে আমার ব্যক্তি স্বার্থ ছিলো না। আর আপনারা, ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করতে না পেরে আমায়, আমার মুরুব্বিদেরকে দিয়ে লাঞ্চিত করালেন আমাকে। আমার মুরুব্বিরা পারতো, সাধারণ সভার মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের। আমার সংবিধানে সাধারণ পরিষদের এ এখতিয়ার ছিলো। কিন্তু সংবিধানের বিপরীতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নাজেহাল বা অপমানিত করার এখতিয়ার সাধারণ পরিষদ বা কারোরই ছিলো না। যেহেতু এ সংবিধান পূর্ববর্তী সাধারণ পরিষদ গুলোই আমাকে অনুমোদন দিয়েছিলো। এছাড়া আমি এ শর্তগুলো অনুযায়ীই সবাইকে আহবান করেছিলাম এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলাম। আর সংবিধান পরিবর্তন করলে আজকের মতো এ রকম পরিস্থিতিতে সদস্যদের টাকা আপনাদেরকেও দিতে হতো। কিন্তু তাতে আপনারা রাজি ছিলেন না বিধায় হয়তো আপনাদের দোষ ছিলো কিনা, সে বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। যে সংবিধানটি ৩/৪ বছরে মাথার ঘাম পায়ে পেলে আমি লিখলাম, তাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, যার যেমন বলতে থাকলেন!!?? অথচ এ সংবিধান অনুযায়ী কাজ করার জন্য পূর্ববর্তী বছর গুলোতে এ রকম সাধারণ সভাই আমাকে অনুমোদন দিয়েছিলো। আর সে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে কেন আমি অপরাধী হবো তাহলে, বুঝিয়ে দিতে পারবেন? কেন সমিতির প্রাথমিক অবস্থায় আপনাদেরকে নিয়োগ দিতে, আবার বরখাস্ত করতে, মিটিং করতে গিয়ে কতগুলো টাকা খরচ করবো? আর প্রতিষ্ঠালগ্নে কি এতো সুযোগ থাকে কোন প্রতিষ্ঠানের? তাছাড়া চোরে চোরে সবাই খালাতো ভাই হলে, ডাকবো তখন কাকে? তারউপর সবাই যদি একপক্ষ হয়, আর সমিতি প্রধান যদি আরেক পক্ষ হয়, সে সমিতি বা এ ধরনের কোন প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব হয় কিনা?

যাহোক, বেলায়েত স্যারের আমার প্রতি এ অসন্তোষের প্রতিফল, আমার সাথে তর্ক-বিতর্ক করা, তাকে অব্যাহতি দেয়া, আমাকে বার্ষিক সাধারণ সভার মধ্যে অপমাণিত করা, এবং আমার কাছে সার্টিফিকেট চাওয়া ও না বলা বা ভূলে যাওয়া আরো অনেক গুলো এক্টিভিটিস এর মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হলো। যা হয়তো অনেকেই বুঝতে পারেন নাই, কেন সে আমার কাছে সার্টিফিকেট চায়। অর্থাৎ আমি কেন শুধু তার উপর নির্ভর করছি না, কেন সমিতি পরিচালনায় আরো লোক নিয়োগ দিচ্ছি। এ জন্য আমার ফ্যামিলির সদস্যদের মতোই তার ভিতর একটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিলো। তা হয়তো আমার বংশীয় সদস্যদের মতোই তিনিও বলবেন না।বা বলতে পারবেন না। আর সকলে কেন আমার তামাসা চায়, আর কেনইবা আমাকে সহযোগিতা করে না; আর মানুষদেরকে শুধু সাত পাঁচ তের বুঝায়। তাদের সকলের মূল একটিই, কেন আমি শুধু একজন বা একটি দলের উপর নির্ভর করি না।

সকল মানুষকে ভালোবাসা, শুধু একজনকে না দিয়ে যোগ্যতার বিচারে সুযোগ-সুবিধা গুলো বিভাজন করে দেয়া, সকল গ্রুপকে বা সবাইকে সম্মান করা, এটা আমার অপরাধ!?

আপনাদেরকে আর একটু হিন্টস দিই, ঠিক একই ভাবে ২০০১ সনে যখন আমার শরীরে জ্বীনের প্রকাশ ঘটলো, তখন বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের পর আমার বংশীয় সদস্যরাও দেখলো যে, আমি তাদের উপর নির্ভর করছি না; তারা একটা শব্দ করলে, আমি তাদের বিপরীতে আরেকটি শব্দ করছি। আমারটা শিশুদের মতো হলেও (কারণ আমার ব্রেন জ্বীন কর্তৃক এ্যাটাক ছিলো), তাদেরটা ছিলো বুঝে শুনে ও স্বার্থ চিন্তায়। ফলে সকাল নেই, দুপর নেই, জ্বীন তাড়ানোর জন্য চলেছিলো আমার সাথে এক মহাযুদ্ধ। আমার সে জ্বীন, আজও কেউ তাড়াতে পারেনি। ফলে আমি নিজেও জানি না আমার ভবিষ্যত কী; আমি কি আল্লাহর পদতল পাবো, না জাহান্নামে যাবো!?

দেখুন এখনো জনাব এমদাদুল হক চৌধুরী স্যার ও জনাব আবু বকর ফরহাদ স্যার আমার কাছে সমিতির সঞ্চয় যথাক্রমে প্রায় ৮৫,০০০/- টাকা ও ৩০,০০০/- পাবে। অপরদিকে বেলায়েত স্যার সমিতির মূলধন গুলো তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়ে খাটিয়েছে অনেকটা সমিতির রুলস অমান্য করে।

একটি প্রতিষ্ঠানের মূল হচ্ছে এর সংবিধান; আর আজকে আপনাদের সামনে আমি সমিতির যে সংবিধানটি উপস্থাপন করেছি, এতে অনেকটাই সহযোগিতা করেছিলেন, জনাব এমদাদুল হক চৌধুরী স্যার।

পক্ষান্তরে সমিতির আইন প্রণয়নে পরামর্শ ও আলোচনার জন্য বেলায়েত স্যারকে আমি সেভাবে পাইনি।

তাহলে সমিতির স্বার্থে জনাব এমদাদুল হক স্যারকে নিয়োগ দিয়ে এবং নব নব যোগ্য ব্যক্তিদেরকে সমিতিতে ইনভল্ব করে বা এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কি ভূল করেছিলাম?

আর এ বিষয়ে জনাব বেলায়েত হোসেন স্যারের মনোভাব ছিলো প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি নয়, তার ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা। না হয় উনাদেরকে নিয়োগ দেয়ার পরে, কেন তিনি আমার সাথে তর্কে পর্যন্ত জড়ালেন? তাদেরকে নিয়োগ দিলেই কি আমি তাকে অবমূল্যায়ন করতাম? কখনোই করতাম না। যেহেতু তিনি এ সমিতির শুরু থেকেই ছিলেন, আমার সহযোদ্ধা। নিশ্চয় আপনারা দেখেছেন, আমার চিন্তাধারা অনেক বড় ছিলো; সে ক্ষেত্রে তিনি পেতে পারতেন হয়তো নব নব সুবিধা।

সুতরাং, শুধু আমার বংশীয় সদস্যদের নিকট নির্ভর না করায় যেমন আজ আমি সম্পূর্ণ একলা হয়ে গেছি, ঠিক তেমনি শুধু বেলায়েত স্যারের উপর নির্ভর না করায় তারও রোশানলে পড়েছি।

আমার বংশীয় সদস্যদের বা বংশের বিরুদ্ধে অবশ্য আর আমি কিছু বলবো না বলে পূর্বে কথা দিয়েছি। তবুও আজকে উপমা স্বরুপ সামান্য একটু বললাম।

এ ছিলো বেলায়েত স্যারের এ রকম ব্যবহারের কারণ হিসেবে তার প্রতি আমার একটি ধারণা।

আর আপনাদেরও হয়তো এবার আমার বিষয়ে জ্ঞান হবে, সে যতই আপনাদেরকে ফোন করে এটা সেটা বলুক, যদি আপনারা আমার এ কন্টেন্ট মনোযোগ দিয়ে পড়েন।

বেলায়েত স্যার সহ সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ:

দেখেন বেলায়েত স্যার! আপনার সাথে হয়তো আমার ব্যবসায়িক দ্বীমত হয়েছে; কিন্তু আমার পক্ষ থেকে বন্ধুত্বতো টুটে যায়নি। কারণ এর আগেও আমি আমার বহু কন্টেন্ট-এ বলেছি, কোন মানুষই আমার প্রতিপক্ষ নয়; আমার শত্রু কেবল ইবলিশ। হয়তো অনেক ক্ষেত্রে ট্রেগাল দিতে পারছি না।

আপনাকে আমি আগের মতোই মিচ করি; কিন্তু কেন আমি জানি না; এর সূত্র কোথায় গ্রোথিত সেটাও আমি বুঝতে পারি না।

আপনাকে আমি আমার বা আমার ফাউন্ডেশনের অনেক কাছের ব্যক্তি হিসেবে মনোনিত করেছিলাম। যে শর্তে আপনি মনোনীত হয়ে সমিতিতে প্রবেশ করেছিলেন; পরবর্তীতে আপনার ব্যক্তি স্বার্থ খর্ব হবে মনে করে, আপনি আপনার নিয়োগ বিষয়ক সে শর্ত ভঙ্গ করে, আমার সাথে করলেন তর্ক এবং করলেন আমায় অমান্য এবং সমিতির অর্থ আপনি সমিতির উপ-আইনের বিপরীতে ব্যবহার করতে প্রচেষ্টা চালালালেন।

তাই যেহেতু এ সমিতি ছিলো আমার একটি স্বপ্ন, শত ত্যাগের প্রতিষ্ঠান; তাই আপনার সাথে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা গুলো আমার স্মৃতির পরিচায়ক ও আমার সাথে থাকা জ্বীন জাতির পরিচয় প্রমাণেরও একটি উপাদান। অর্থাৎ এ কন্টেন্টটিও আমার জীবনের একটি স্মৃতি স্মারক। আর তাই এ কন্টেন্টটি আপনি বা আপনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ বা যে কেউ, মুছে ফেলতে কখনোই আমাকে অনুরোধ করবেন না। এছাড়া ইহা সামাজিক শিক্ষারও এক বাস্তব দৃষ্টান্ত। অতএব আপনি আমার পাওনার বাকী টাকা দেন আর না দেন অথবা এ কন্টেন্টএর ভিউয়ার থাকুক বা না থাকুক, ইনশা’আল্লাহ এ কন্টেন্টটি আমি ডিলিট করবো না। প্লিজ, এ ধরনের কোন অনুরোধ আমায় কেউ পাঠাবেন না।

আপনি মনে কইরেন না এখানে আপনাকে অপমান করা হচ্ছে; কারণ এ কন্টেন্ট গুলো নিয়ে, আল্লাহ যদি তাওফিক দেয়, তাহলে তৈরী করবো জ্বীন জাতি প্রমাণের আরেক গ্রন্থ। অতএব সবাইকে এ কন্টেন্ট কেটে ফেলতে সাজেস্ট না করতে আমি অনুরোধ করছি। তাছাড়া এ কন্টেন্টটি আসলে আপনার বা কারো বিরুদ্ধেই হিংসাত্মক বা শত্রুতা মূলক কোন কন্টেন্ট নয়।

 

পরিশেষ:

সম্মানিত ভিউয়ার এবং এ গল্পের পাঠকবৃন্দের নিকট বিনীত ভাবে বলতে চাই; ভাই হাতে একধম সময় নেই। সত্যি আমার ও আমার পরিবারের জন্য খাদ্য কেনার টাকা এখন নেই আমার হাতে। সাধারণ মানুষদের এ সময়ে এ ধরনের পোস্ট লিখার প্রশ্নই আসে না। কারণ তাদের হয়তো রিজেকের চিন্তায় হুশই থাকবেনা, এ সময় গুলোতে। আবার গল্প লিখবে সে!?

আজ যদি মানুষ না হয়ে জীব জন্তু বা পক্ষীকূল হতাম আমি, তাহলে হয়তো, এতো টেনশন আমারও হতো না। তবুও মহান রবের অশেষ মেহেরবাণীতে লিখতে সমর্থ হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।

ভায়েরা, আমার এ বন্ধুটি (২য় পক্ষ) মানুষের নিকট শুধু ফোন করছিলো, এ বিষয়টি দেখতে পেয়ে, আমি এ বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রচেষ্টা চালালাম।

সবাইকে অনুরোধ করবো আশাকরি আমাকে আর এ ধরনের পোস্ট লিখতে বাধ্য করবেন না, প্লিজ।

পাতলা পায়খানা ও সাথে রক্ত যাওয়া এবং শুন্য পকেট নিয়ে কন্টেন্টটি লিখেছি। পরিবারের সদস্যরা তাদের নানার বাড়ি বেড়াতে গেছে। আমাকে ভাত রান্না করে খাওয়াবে, একটু সেবা করবে, এখানে এ রকম কেউ নেই। ঐ দিন আম্মা বললেন এ মাস তোর ঘরে আমার খানা (আম্মা আমাদের ৩ ভাইর ঘরে ১ মাস করে থাকেন; অথচ কলিজা বিদীর্ণ করে বললাম, আমার ঘরে গিয়ে এখন খাবেন কী?

ঠিক এভাবেই আমার শরীরে এ জ্বীনের আবির্ভাবের পর থেকে হারাতে হয়েছে অনেক কিছু। অনেক চিন্তাধারা, অনেক ভবিষ্যত পরিকল্পণা এবং আমার ল্যান্ড প্রপার্টি সহ সম্মান জনক চাকুরি বা অন্যান্য সম্পদ। সব কিছু বলা যাবে না ভাই। তাই আমার এ ত্যাগের, ধর্য্য ধরার ও সহ্য করার যেন একটি উত্তম প্রতিফল পেতে পারি, মহান রবের নিকট আমি এটিই চাই।

আমার একটা হালাল ইনকামের জন্য ও ইন্তেকালের আগে এবং পাওনাদারদের জীবদ্দশাতেই যাতে মানুষের পাওনা টাকাগুলো দিয়ে যেতে পারি, সকলের নিকট এ দোয়া চেয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।

ধন্যবাদ। সকলে ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। সুন্দর থাকুন। দেখা হবে হয়তো, অন্য কোন গল্পে বা অন্য কোন লিখনিতে। আল্লাহ হাফেজ।

মা’আরেফুল কুরআন শরীফ পড়তে চাইলে

এখানে ক্লিক করুন

আবার শুদ্ধরূপে কোরআন তিলাওয়াত শিখতে

এখানে ক্লিক করতে পারেন