Please share-
    • বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

নির্দিষ্ট অংশ পড়তে ক্লিক করুন অথবা পড়া চালিয়ে যান-

(সিরিজের সবগুলো গল্প মনযোগের সহিত পড়ে এরপর মন্তব্য করুন)

০) সিরিজ গল্পের নাম:

দুনিয়াতে জ্বীন আছে এবং আমি একজন মানবজ্বীন।

১) সিরিজের বৈশিষ্ট্য:

আত্ম-অনুসন্ধান ও গবেষণা।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

 ২) গবেষণার বিষয়:

দুনিয়াতে জ্বীন আছে কিনা এবং আমি মানবজ্বীন কিনা তা অনুসন্ধান ও গবেষণা করে বের করা।

৩) গল্পের নাম ও গল্প নং:

গল্পের নাম:

মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া

গল্প নং:

(এডিট করে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।)

৪) প্রবন্ধ লিখার তারিখ এবং প্রবন্ধের প্রকৃতি:

তারিখ:-  ১৯ মে ২০২৩ খ্রি., শুক্রবার।

প্রবন্ধের প্রকৃতি:- আত্মসমালোচনা ও জ্বীন জাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিতকরণ মূলক।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

   ৫) কী উদ্দেশ্যে প্রবন্ধটি লিখা:

গত পুরো রোজার মাস জুড়ে (২০২৩ খ্রি./ ১৪৪৪ হিজরি) আমি আপনাদেরকে বলেছিলাম আমি জ্বীনমানব। জ্বীনের প্রভাবে আমি প্রতিভাত এবং আপনারাও (আমার পরিচিত বা প্রতিবেশী গণ) নিশ্চয় লক্ষ্য করেছিলেন যে, সমাজের বাকি ১০ জন মানুষের চাল-চলন বা অভ্যাস থেকে আমি সম্পূর্ণ আলাদা ছিলাম। অবশ্য আমার এ আনকমন অভ্যাস যে শুধু এ রমজানে হয়েছে তা কিন্তু নয়; প্রত্যেক রমজান মাসেই সবার থেকে আলাদা একটা অভ্যাস এটা আমার বহুদিনের। যেমন ঘরে ছোট ছোট আমার সন্তানদেরকে রেখে, অরিশ রোগ নিয়ে প্রতি রমজানেই এতেকাফে যাওয়া, মসজিদের মধ্যে প্রায় সারা দিন নামাজ-কোরআন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানো, চোখের পানিতে কাঁদতে থাকা, সকলের সাথে ইফতার না খেয়ে একাকী অল্প খাওয়া, শুক্রবার ব্যতীত অন্য কোন দিন গোসল না করা, হাফ গেঞ্জি পরে না থাকা বা উদোম না থাকা ইত্যাদি আরো কত কী!

এছাড়া রোজা ব্যতীত সারা বছরের বিশেষ বিশেষ সময়, যেমন শুক্রবার দিন বিশেষ করে হুজুরের বয়ানের সময় আমার এ ধরনের ব্যতিক্রমী স্বভাব আমি লক্ষ করি।

অবশ্য বিভিন্ন দৈন্যদশা আর অপমান মূলক পরিস্থিতিতে পড়ে এবং জ্বীন এবার আরো স্পষ্ট ভাবে প্রকাশিত হওয়ায় এবার (২০২৩ ইং) আমার এ ব্যতিক্রমী মানসিকতার স্বরূপ পরিবর্তিত হয়েছিল।

মানুষের শরীরে জ্বীন! বিষয়টা শুনতে অনেকটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও; রমজান মাসে যারা আমাকে কাছ থেকে দেখেছেন; তারা অবশ্যই বলবেন; হাঁ, বিষয়টা সত্য।

তবে আপনারা আমার এ অভ্যাস শুধু অনুভবই করেছেন; কিন্তু বুঝতে পারেননি যে, (যেহেতু আমি এ রকম আচরণ জ্বীনের প্রভাবেই করে ছিলাম বা করে থাকি) জ্বীন আসলে আমার শরীরে কী কী ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া ঘটায় বা তখন আমার শারীরিক ও মানসিক কী কী পরিবর্তন ঘটে।

আদৌ কি আমি তখন অন্য মানুষদের মতো স্বাভাবিক থাকতে পারি কিনা বা এতে আমার কোন কষ্ট হয় কিনা; তা আপনারা জানেন না। তবে আপনাদের আচরণে আমি স্পষ্টই বুঝতে পেরেছি যে, আমি যে রমজান মাসে স্বাভাবিক  মানুষ হিসেবে থাকতে পারি না, তা আপনারা অনেকেই বুঝতে পেরেছিলেন।

যেহেতু আপনাদের সাথেই আমার এ জীবন অতিবাহিত করা, উঠা-বসা, চলাফেরা, কাজকর্ম। তাই আপনাদের জানা প্রয়োজন যে, জ্বীনের প্রতিক্রিয়ায় আমার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কেমন থাকে।

আর এ থেকে এও বোঝা যেতে পারে যে, মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া কী বা কেমন হতে পারে?

আমার এ অবস্থাটি জানানো এবং মনুষ্য শরীর যখন জ্বীন দ্বারা প্রভাবিত হয় তখন মানুষের কী ঘটে বা ঘটতে পারে, সে সম্পর্কে আলোকপাত করাই আমার আজকের প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

     ৬) এ প্রবন্ধের মাধ্যমে কার বা কাদের উপকার হবে বা হতে পারে:

এ প্রবন্ধের মাধ্যমে আমি, বা যে কোন ভাবে যারা আমার সাথে সম্পৃক্ত বা সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী বা প্রয়োজন এবং যারা মনুষ্য শরীরে জ্বীনের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চান বা এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করতে চান ইনশাআল্লাহু এ প্রবন্ধের মাধ্যমে তাদের সকলেই  উপকৃত হতে পারেন বা উপকৃত হবেন বলে মনে করি।

এ লক্ষ্যে আমার সকল আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রবন্ধটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি; যাতে আপনারা বুঝে-শুনে আমার সাথে ব্যবহার করতে পারেন ও আমরা কেউ যেন কারো মনোকষ্টের কারণ না হই।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৭) সারমর্ম:

প্রতি বছর রমজান মাসে এবং বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে আমার শরীরে জ্বীন প্রকাশিত হয় এবং তখন আমার শরীর ও মনে কী প্রতিক্রিয়া ঘটে বা ঘটছে অথবা আমি কোন কোন ক্ষেত্রে বাকিদের থেকে ভিন্ন থাকি বা কষ্ট অনুভব করি ও একই ভাবে মানব শরীরে জ্বীন প্রকাশিত হলে অর্থাৎ কাউকে জ্বীনে ধরলে, ঐ ব্যক্তি কেমন আচরণ করতে পারে তা জানা এবং জানানোই হচ্ছে, এ প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য। যাতে আমাকে মানুষ বুঝতে পারে এবং আমাদের পারষ্পরিক ব্যবহার কারো মনোকষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৮) শর্ট ডেসক্রিপশন:

যেহেতু বার বার আমার শরীরে জ্বীন আত্মপ্রকাশ করছে, এবং আমার মনে হয়, ইহা আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে; আর তাই দৈনন্দিন জীবনে চলতে গিয়ে আমার পরিজনদের সাথে বা চাকুরিতে বা ব্যবসা-বাণিজ্যে বা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আমি কেমন ব্যবহার করতে সক্ষম বা আমার বৈশিষ্ট্য কেমন হতে পারে বা সবার চাইতে ব্যতিক্রম, এ রকম ব্যবহার আমি কেন করছি, এ বিষয় গুলো যদি আপনাদের জানা না থাকে, তাহলে পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনে আমাদের পারষ্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হয়তো সম্ভব নাও হতে পারে। আর তাই জানিয়ে দিতে মন চাচ্ছে যে, রমজান মাসে এবং বিশেষ বিশেষ সময় গুলোতে আমার শারীরিক-মানসিক অবস্থা কেমন হয়।

তবে শারীরিক একটা বিষয় এমন যে, যখনই জ্বীন আমার শরীরে প্রকাশিত হয়েছে; তখনই আমার পুরো শরীর অত্যধিক ভার বোধ মনে হয়েছে এবং মানসিক ভাবেও তখন যে কোন কথা বলতে বা কাজ করতে ফ্রি অনুভব করিনি। এটা শারীরিক-মানসিক ভাবে আসলে একটা কষ্টের সিটোয়েশন।

সবচাইতে বড় কথা হলো যখন জ্বীন পুরোপুরি আমার শরীরে জাগ্রত হয় (রমজান মাস বা বিশেষ সময় গুলোতে), তখন আমি অনেকটা পরাধীন থাকি। তখন আমাকে যেন অন্য কোন শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে; তখন আমার ইচ্ছে মতো আমি যেন কোন কিছু করতে পারি না, যেন যন্ত্রচালিত ভিন্নগ্রহের যাদুগ্রস্থ কোন এক মানুষ আমি । যার ব্যাখা ডেসক্রিপশনের মধ্যে আমি বর্ণনা করেছি। এছাড়া তখন আমার মন-ব্রেন ও পঞ্চইন্দ্রিয়ে এমন কিছু কার্য  চলে যা বা এমন কিছুতে তখন আমি বিশ্বাস স্থাপন করি বা করতে হয়, যা স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে হতেই পারে না। তবে, আলহামদুলিল্লাহ, এটা এমন নয় যে, কোন খারাপ কার্যে আমাকে ধাবিত করা হচ্ছে। বরং তখন আমি যেন অতি উন্নত চরিত্রের, মানুষের অতি উত্তম সকল গুণাবলী নিয়ে আমি যেন তখন প্রকাশিত হই। যেন চারদিকে সকলেই আমার বন্ধু, শত্রু বলতে যেন আমার কেউ নেই। আর এ মানসিকতা গুলোয় যখন কারো সাড়া পাইনা, সম্মান পাই না; তখন মানসিক ভাবে আমি অনেকটাই কষ্টে থাকি।

সম্মানিত ভিউয়ার, আপনারা জানেন, বর্তমানে আমি অনেকটাই ঋণী হয়ে আছি। বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্ধন সমিতির নিকট মানুষের সঞ্চয় ফেরত হিসেবে আমার নিকট প্রায় ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা মানুষ পাবে; তার উপর এখনো আমি ভালো কোন ইনকামের ব্যবস্থা করতে পারিনি। আমার ৬ সদস্যের সংসার। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি অপমানের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। কিন্তু আমার সাথে থাকা এ জ্বীন জাতির উন্নত বৈশিষ্ট্যের কারণে, যেহেতু সে কোরআন কিতাব নিয়ে থাকতে চায়; আর যেহেতু কোরআন দুনিয়ায় এসেছে সম্মান পাওয়ার জন্যে, অপমানিত হওয়ার জন্যে নয়; তাই স্বাভাবিক ভাবেই সে মানুষের কাছে সম্মান আশা করে। তার উপর আমার মা সৈয়দ বংশের হওয়ায় আমার সাথের জ্বীন নিজকে রাসুল (সা:) আওলাদ হিসেবে মনে করে।

এমতাবস্থায় মানুষ গুলো থেকে যখন আমার প্রতি সে এ ধরনের কোন মনোভাব বা দৃষ্টি ভঙ্গি পায় না; তখন আমাকে থাকতে হয় চরম এক যন্ত্রণায়। আবার তার ইবাদতের চাহিদা অনুযায়ী লম্বা তিলাওয়াত, বেশি বেশি নামাজ; বিশেষ করে মনুষ্য প্রকৃতির বিভিন্ন দ্বি-মুখী বৈশিষ্ট্যের সাথে একাট্টা রেখে পিউর ভাবে চলতে গিয়ে, শারীরিক, মানসিক ও সমাজের বিভিন্নমুখী যন্ত্রণা তখন আমাকে সইতে হয়। ফলশ্রুতিতে রমজান মাসে আমাকে শান্তির পরিবর্তে এক ধরনের যন্ত্রণার মধ্যেই দিনাতিপাত করতে হয়।

আসলে যার যা চাহিদা বা উপযোগিতা নেই অথবা যে যন্ত্রণা যে কখনো সয়নি, তাকে বা তাদেরকে আমি হয়তো বুঝাতেই পারবো না যে, জ্বীন আমার শরীরে উদ্ভাসিত হলে, তখন আমার কী অবস্থা হয় বা তখন আমার কী কষ্ট হয়। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি, দুনিয়ার জমিনে আমার সহযোদ্ধা হিসেবে আপনাদেরকে আমার সে সব অবস্থা সমূহ জানিয়ে যেতে।

আলহামদুলিল্লাহ, রমজানের প্রায় ১ মাস পর আজ শাওয়ালের ২৯ তারিখ রোজ শুক্রবার দিন সন্ধার পূর্বে এ প্রবন্ধটি লিখা আরম্ভ করেছি বলে হয়তো আপনাদেরকে কিছুটা জানাতে পারবো। কারণ রমজানের মধ্যে হলেতো আমার বা মানুষের জন্য কোনটি স্বাভাবিক আর কোনটি অস্বাভাবিক সেটিই হয়তো বুঝতাম না। তাহলে নিজকে আবার জানাবো কিভাবে? এছাড়া শুক্রবারের এ সময়ে না লিখলে, যেখানে আমার ও আমার পরিবারের ভাতেরই ব্যবস্থা এখনো নেই, তারউপর সীমাহীন অভাব আমার; এ রকম একটা পরিস্থিতিতে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে হয়তো অনেকটা অবাস্তব মুখী এতো কিছু  আপনাদেরকে আমি জানাতে পারতাম না। সপ্তাহের এ সময়টি মানুষের উপর আল্লাহু তা’য়ালার বিশেষ রহমত পড়ার সময় হওয়ায়, হয়তো সাহস করে কলম ধরেছি।

তাই আপনাদের নিকট দোয়া প্রার্থী,  মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া এ প্রবন্ধের মাধ্যমে আমার শরীরে জ্বীন জাগ্রত হওয়ার সময়কার আমার বৈশিষ্ট্য সমূহ যেন আপনাদেরকে জানাতে পারি। জানি না আপনারা এর কতটুকু বিশ্বাস করবেন, আর আমিইবা আপনাদেরকে কতটুকু জানাতে বা বোঝাতে পারবো। এ লক্ষ্যে আমার সাথে রিলেটেড সবাইকে এবং আমাকে বিবেচনা করে জ্বীন জাতিকে জানতে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গকে এ প্রবন্ধের শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

 

৯) ডেসক্রিপশন:

সকলে ভালো করে মনে রাখবেন যে, আমার জ্বীন গঠিত অবস্থা বা সময় সমূহ কখনো আমি নিজ থেকে, ইচ্ছে করে করি না। বরং এগুলো প্রাকৃতিক ও আমার স্বভাবগত ভাবেই হয়ে থাকে। ফলে এ অবস্থা গুলোও একধরনের রোগের মতোই, ফলে এতে আমি দোষী সাব্যস্ত হতে পারি না। যেমন গত রমজানে আমি অনেকদিন মসজিদে নামাজ না পড়ে ঘরে একাকী পড়েছি। চাকুরির স্থলেও আমি মসজিদে এবং জামাতে নামাজ পড়তে বার বার আকুতি জানিয়েছি (এ বিষয়টি অবশ্য রমজান বাদে সবসময়ই আমি করে থাকি)।

অতএব আমার চাকুরী দাতা গণ এবং আমার যে সব দায়িত্ব রয়েছে, এ সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ গণ আশা করি এ সময় গুলোতে আমাকে বুঝে নিবেন বা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

অর্থাৎ আমি বলছিলাম, এ সময়ে হয়তো আমার কোন সহকর্মীর বা সরকারি-বেসরকারি কোন কর্তৃপক্ষের বা কর্মরত আমার নিজের প্রতিষ্ঠানের এমন কোন খারাপ কার্যের প্রতিবাদ আমি করে ফেললাম, যা হয়তো তিনি বা তারা পছন্দ করেননি; অথচ এ প্রতিবাদ করার বিষয়টি বা মানুষকে জানানোর বিষয়টি সমাজের জন্য বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ছিলো। অথবা জামাতে নামাজ পড়তে চলে গেলাম, আর এদিকে আপনারা আমাকে খুঁজে পাননি। তবে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির পিছনে বা এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে তার বা তাদের কিছু ব্যক্তিগত বিষয় বা কিছু গোপনীয়তার শর্ত থাকে; আপনাদেরকে আমি আশ্বস্থ করতে চাই যে, আমার দ্বারা বা আমার জ্বীনের দ্বারা কখনোই আপনাদের সেসব পার্সোনালিটি সমূহ প্রকাশিত হবে না। যেহেতু অতীতে কখনো হয়নি। কারণ আমার এ জ্বীন আমাকে চরিত্রগত ভাবে উন্নত করেছে বা করছে, কখনোই অবনতির দিকে নেয়নি। যদিও অর্থনৈতিক ভাবে আমি অনেকটা পঙ্গু হয়ে গিয়েছি। আমার গত ২২ বছরের জীবনে যা প্রমাণিত সত্য। তাই আমাকে নিয়ে আপনাদের কোন টেনশন থাকার কথা নয়।

এক্ষণে আমার শরীরে যখন জ্বীন ক্রিয়েটিভ বা পুরোপুরি স্বক্রীয় হয় তখন আমার বৈশিষ্ট্য সমূহ কী রুপ থাকে বা আমার কাছে তখন কেমন লাগে বা তখন আমি কী করি বা করতে পারি বা অতীতে করেছি অথবা কী করিনাই অথবা করতে পারি না, তা নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরলাম। যা থেকে ধারনা করা যাবে একজন জ্বীনগ্রস্থ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৯.ক) মন ও ব্রেনের অস্বাভাবিকতা:

জ্বীনগ্রস্থ অবস্থায় বা রমজান মাসে বা শুক্রবারে জুমার নামাজে আমি সবচাইতে যে বিষয়টি বেশি ফীল করি, তা হচ্ছে সমাজের ১০০% মানুষের যে স্বাভাবিক মন ও ব্রেন বিরাজমান থাকে, এ সময় গুলোতে মানুষের এ স্বাভাবিক অবস্থা থেকে আমি থাকি অনেক বিপরীত অবস্থানে। যেমন (1) ঈমাম মাহাদী (আ:) ও ঈসা (আ:) এঁদের নামে, তাঁদের সম্পত্তি হিসেবে বন্ধন ফাউন্ডেশনের অস্থায়ী এ অফিস ও অফিসের জায়গাটুকু আমি ওয়াকফ করবো ইনশা’আল্লাহ, যা আমি বন্ধন সমিতি এর গঠনতন্ত্রের মধ্যে বহু আগেই উল্লেখ করেছি।

এখানে ক্লিক করে

আমার নিজের লিখা সে গঠনতন্ত্রটি আপনারা পড়ে দেখতে পারেন।

(2) আমি এর আগে আরেকটি প্রবন্ধ ও ভিডিও’তে উল্লেখ করেছি যে, আমি নোবেল প্রাইজের জন্য  এবং আমার এ বংশটিকে রাসূলুল্লাহ (সা:) এঁর বংশের উত্তরসূরী হিসেবে সৌদি আরবে নিয়ে প্রতিষ্ঠাপিত করার জন্য টার্গেট গ্রহণ করেছি। সে প্রবন্ধটি পড়তে আপনারা

এখানে ক্লিক করতে পারেন

এবং সে ভিডিওটি দেখতে

এখানে ক্লিক করতে পারেন

এ সময়ে আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিয়ে ফেসবুকে ২ টি প্রবন্ধ লিখেছি। যা নিম্নরুপ-

(১)

আমার কাছে মনে হয়েছে, পৃথিবীর প্রত্যেকটি জীব কর্তৃক উৎপাদিত শব্দের রয়েছে সুনির্দিষ্ট অর্থ।

যেমন মানুষ, পাখি ও অন্যান্য সকল জীব ও প্রাণী কর্তৃক উৎপাদিত শব্দ বা জীব ও জড়ের প্রিকশনেবল শব্দ।

আমার কাছে আরো মনে হয়েছে এ সকল শব্দকে যদি স্টোরেজ করে রাখা যায়, তবে এ শব্দ গুলোর অডিও বা ভিডিও ভার্সনের এইচ টি এম এল বা সি এস এস বা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক code এ পরিবর্তনের মাধ্যমে স্টোরেজকৃত ঐ শব্দের উৎপত্তিস্থল কিংবা ঐ শব্দটি কার বা এ শব্দের গতি-প্রকৃতি ইত্যাদি তথ্য গুলো গবেষণা মূলক ভাবে বের করা সম্ভব।

তবে শর্ত হচ্ছে এ শব্দটি অবশ্যই পূর্ব হতে মানুষের তৈরি কোন ডিভাইসে স্টোরেজ থাকতে হবে।

তো আমার মতে যেহেতু পূর্ব হতে স্টোরেজ থাকলেই কেবল শব্দের গবেষণা লব্ধ যে কোন জ্ঞান বের করা যেতে পারে; অপরপক্ষে স্টোরেজ না থাকলে কোন তথ্যই পাওয়া যাবে না;
তাই শুনেছিলাম আমাদের প্রিয় নবীজী রাসূলুল্লাহ (সা:) এঁর কথা স্টোরেজকৃত পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানী গণ নাকি বের করবেন।

তো যদি আসলেই আপনারা আমার রাসূল (সা:) এঁর কোন কথা বা কাজ বের করতে চান, তবে আপনাদের প্রতি এ বিষয়ে আমি আমার উপর্যুক্ত থিওরি অনুযায়ী তাদেরকে বলতে চাই যে, আসলে এটি হবে আপনাদের একটি ফন্ড শ্রম।

এ বিষয়ে আমি মনে করি যেহেতু ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আলকোরআনে সমস্ত সৃষ্টি জগতের পূর্ব থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছুরই রয়েছে একটি দিক নির্দেশনা ও জ্ঞান; আর এ মহাগ্রন্থের ভার্চুয়াল ও প্রিন্টেড কপি সংরিক্ষত রয়েছে আমার মহান রবের একান্তই নিজস্ব সংরক্ষণাগার লাওহে মাহফুজে; আর তাই সে পর্যন্ত যেহেতু তাঁর সৃষ্ট কোন কিছুই যেতে পারবে না বা পারবে বলে মনে হয় না; মানুষ আর জ্বীন জাতি বা আপনাদের মতে অন্য কোন জাতিও যদি থেকে থাকে তবে আল কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী কেউই যখন সেখানে যেতে পারবে না; তবে শব্দের এ গতি প্রকৃতি বা অবস্থান বের করে আমাদের রাসূলুল্লাহ (সা:) এঁর স্বভাব বা প্রকৃতি বের করা কেয়ামত পর্যন্ত কারো দ্বারা সম্ভব হবে না।

আবার কেউ যদি বলতে চান; আল কোরআনতো পৃথিবীতেই রয়েছে। হ্যাঁ অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু উপরে আমি এ মহা গ্রন্থের ভার্চুয়াল কপি নামে একটি কথা উল্লেখ করেছি।

দেখুন আলকোরআনে সমস্ত সৃষ্টির সমস্ত কিছুই লিপিবদ্ধ আছে। কোনটি সরাসরি বর্ণগঠিত ভাষায় আর কোনটি ভাব বা ইঙ্গিতে।

হে আমার বিজ্ঞানী ভাই গণ যদি সত্যিই রাসূলুল্লাহকে (সা:) নিয়ে আপনাদের গবেষণা হয়; তবে তিনি সহ পৃথিবীর ও মহা সৃষ্টির যাবতীয় কিছু সংরিক্ষত থাকতে পারে এবং শুধু মাত্র সংরিক্ষত থাকতে পারে এবং কেবলমাত্র সংরিক্ষত থাকতে পারে সেই মহাগ্রন্থ আল কোরআন এর সংরক্ষণাগার লাওহে মাহফুজে।

যেহেতু রবের ঘোষণা অনুযায়ী আল কোরআনই হচ্ছে সর্ব শেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ও পৃথিবী সহ সকল সৃষ্টির সকল কিছুর তত্ত্ব ও তথ্যে সমৃদ্ধ একমাত্র কিতাব।

আবার যাকে আমি পবিত্র কোরআনের ভার্চুয়াল কপি হিসেবে পরিভাষা দিয়েছি সেই কপিতে। পৃথিবীতে প্রাপ্ত বা অবস্থিত কোন প্রিন্টেড কপিতে নয়।

তবে পৃথিবীতে অবস্থিত আল কোরআনে পাবেন এর ইঙ্গিত। যেমন হা م chouad. ইত্যাকার স্টোরেজডকৃত সুপ্ত ও গুপ্ত অর্থবোধক হরফে।

তো যদি আমার নবীজী রাসূলুল্লাহকে (সা:) নিয়ে এ ধরনের গবেষণা আপনারা করে থাকেন বা করতে মনস্থ করেন; তবে এ কাজ ছেড়ে জগতের কল্যাণমূখী অন্য কোনো কাজে মাথা খাটালে তা আপনাদের বা জগতের জন্য অনেক উত্তম হবে। ধন্যবাদ সবাইকে। সবাই ভালো থাকুন।

(২) আমার মনে হয় পুরো সৃষ্টি জগত রবের একটি অফিস। যেখানে মুসলিমকে বেশি, কিংবা রবের বন্ধুকে বেশি, অথবা অমুসলিমদেরকে বা বাকিদেরকে কম এ রকম অবস্থার কোন সুযোগ নেই। রব কারো প্রতি করেন না অবিচার। দুনিয়া ও আখিরাতে প্রত্যেকে শুধুমাত্র নিজ নিজ কর্মফলই প্রাপ্ত হয় বা হবে। এর বেশি কিছু নয়। এবং যার কার্য সম্পাদিত হয় শুধু একটি, শুধু একটিই সফটওয়্যারের মাধ্যমে। যা রবের সফটওয়্যার। যা আল্লাহু তা’য়ালারই সফটওয়্যার। রবের সকল সৃষ্টির সকল কার্যক্রম, অর্থাৎ মানুষ সহ যে কোন প্রাণী ও জীব কর্তৃক উৎপন্নকৃত শব্দ বা কাজ বা যে কোন কিছুর পুরোটাই এবং পুরোটাই ঐ সফটওয়্যারে থাকে আন্ডার কানেকটেড। হয়তো মানুষকে খুব সামান্যতম, খুব সামান্য তম এবং খুব সামান্য তম জ্ঞান দেয়ার কারণে মানুষ তা বুঝতে পারে না। রবের এ সফটওয়্যারের কিছু কার্যক্রম মানুষের কাছে স্বাভাবিক মনে হতে পারে, আর কিছু কার্যক্রম মনে হতে পারে অস্বাভাবিক। আবার প্রতি নিয়তই চলছে রবের এ কার্যক্রমের আপডেট। রবের পক্ষ থেকে যে আপডেটের পরিভাষা, বাংলায় যার পরিভাষা শুধু মাত্র ‘হও’। এ হও শব্দটি যে কত কত কত অল্প সময়ে সম্পাদিত হয় তার কোন সূক্ষ্ম একক আমি মনে করি পৃথিবীতে আবিষ্কৃত হয়নি। রবের এ আপডেটের ইঙ্গিত কেবলমাত্র আল-কোরআনে লিপিবদ্ধ। যা أ লাম mim। যা লিকাল কিতাবু…।এ আলিফ লাম মিম এ প্রকারেরই আরেকটি অর্থ। ধন্যবাদ সবাইকে। সবাই ভালো থাকুন। আল্লাহ্ হাফেজ।

ফেসবুক থেকে এ পোস্ট ২ টি পড়তে   এখানে  অথবা  এখানে  ক্লিক করতে পারেন এবং সাইন ইন করে সেখান থেকেও উপরোক্ত পোস্ট দু’টি পড়তে পারেন।

সুপ্রিয় সুধী এ রকম চিন্তা বাকি মানুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত আসার কথা নয়।

আবার এতে আপনারা আমাকে পাগল ভাবতে পারেন না। কারণ আমার এ বিষয়টি সাপোর্ট দিয়েছে আমার মা ও আমার স্ত্রী। আমি যদি মানসিক রোগী বা পাগলই হই, তাহলে প্রথমত তারাতো আমাকে পাগল বলবে, তাইনা? কিন্তু তারা বলেছে আমি জ্বীনের প্রভাবে এ রকম বলছি বা করছি। আবার মানসিক রোগী কখনো এতো পোস্ট লিখা, অনলাইন কার্যক্রম বা সংসার এতো কিছু পরিচালনা করা, এসব পরিচালনা করতে পারে না। তাছাড়া রোগী হলেতো আমি ঔষধ খাবো, তাইনা? অথচ শরীরের উপর এতো অনিয়ম ও জুলুম (খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, অতি পরিশ্রম ইত্যাদি) করার পরও আলহামদুলিল্লাহ গত প্রায় ৮ বছর আমি মানসিক রোগের কোন ঔষধ খাই না। অথচ আমার যে সিনড্রোম গুলো দেখে বা যেগুলো দূরীভূত করতে আমার এ অবস্থা আরম্ভ হওয়ার প্রথমে সেই ২০০২ সনে প্রথম যখন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে ছিলো, সে সিনড্রোম গুলো আজও বিরাজমান (বিশেষ করে রমজান মাসে)

আবার যে মুহূর্তে এ টার্গেটের বিষয় গুলো আমি করেছিলাম, সে মুহূর্তে আমি কমপেক্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, একাডেমি রোড, ফেনী সদর, ফেনী এ প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর ও ল্যাব-ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলাম। কই তাদের কেউতো আমাকে মানসিক রোগি বলেনি এবং চাকুরী থেকে আমাকে বরখাস্তও করেনি। আবার আমি আমার দায়িত্ব পরিচালনাতেও কোন ধরনের অবহেলা বা অক্ষমতা প্রকাশ করিনি। এছাড়া আমার সমাজের কেউও আমাকে পাগল সাব্যস্ত করেনি। তাই অনুরোধ যারা আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনেন না, তারা অযথা এ পোস্টের যে কোন মন্তব্য করবেন না।

তো আমার জ্বীনগ্রস্থ হওয়ার এ সময়কার অবস্থা সমূহ যদি পুরোপুরি লিখতে যাই, তাহলে বড় ধরনের কয়েকটি বই লিখলেও মনে হয় শেষ হবে না। তাই আপনারা যেহেতু আমার এ বিষয়ে উপরোক্ত কয়েকটি উদহারণ সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন, তাই এ থেকে আমার বাকী বিষয় সম্পর্কেও একটা ধারনা করে নিতে পারেন।

তবে স্পষ্ট করে আপনাদেরকে আমি বলছি যে, মানুষের জন্য অমঙ্গলজনক অথবা ইসলামের বিপরীত কোন চিন্তাধারা এ সময় গুলোতে আমার আসে না। বরং মানুষের মঙ্গল চিন্তা এবং বৈজ্ঞানিক ও ইসলামি গবেষণাতেই থাকি আমি নিমগ্ন। যা সমাজের জন্য খুবই কল্যাণকর।

অপরপক্ষে একই ভাবে প্রমাণ করা যায় যে, সমাজের যে সব মানুষকে জ্বীনে ধরে বা জ্বীনে ধরার কারণে যে সব মানসিক রোগ হয় (ভাই এটি ১০০% সত্য যে, মানুষের মানসিক রোগের এবং মানুষ পাগল হয়ে যাওয়ার একটি কারণ দুষ্ট শ্রেণীর জ্বীনের আক্রমণ); তাদের মন ও ব্রেনও অস্বাভাবিক থাকে। অবশ্য আমার সাথের জ্বীনটি আমার বুঝ মোতাবেক আমার জন্য কল্যাণকর বিধায়, এর স্বরুপ হয়তো এক রকম; আর কারো ক্ষেত্রে যদি দুষ্ট জ্বীনের তথা শয়তানের আসর হয়, তবে এর স্বরুপটি ভিন্ন রকম হতে পারে। তবে জ্বীনে ধরলে যেহেতু মানুষের ব্রেন অস্বাভাবিক হয়ে যায়, তাই রোগী হয়তো এমন কিছু বিশ্বাস করতে পারে বা এমন অস্বাভাবিক আচরণ বা কার্য করতে পারে যা আদৌ সত্য নয় এবং যা মনুষ্য সমাজে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের কর্ম নাও হতে পারে। আর এভাবে চলতে চলতে রোগী হয়তো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে, তখন হয়তো তার ব্রেন অকার্যকর বা ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে অথবা তখন এমন কিছুতে হয়তোবা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে যে, যা কখনো হয়তো মানুষের জন্য কাম্য হতে পারে না। অবশ্য এখানে যার উপর জ্বীন ক্রিয়া করবে, তার নিজস্ব ব্রেনের ক্যাপাসিটি বা এবিলিটির উপরও তার বৈশিষ্ট্য সমূহ আবর্তিত হতে পারে।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৯.খ) মন ও ব্রেনের উপর জ্বীনের নিয়ন্ত্রণ:

জ্বীনগ্রস্থ বা আবেগতাড়িত হওয়ার এ সময় গুলোতে আমি যা করি, তা অনেক সময় আমার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বাইরে থেকে হয়। অর্থাৎ একদিকে যেমন আমি নিজ থেকে এ রকম করি না; ঠিক তেমনি এ কার্য গুলোতে আমি নিজকে নিয়ন্ত্রণও করতে পারি না। আর আমার এ অবস্থাটি বুঝতে পেরে আমার পরিজন গণ আমাকে সুস্থ করতে  বারে বারে আমাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা নামীয় স্ট্রীম রোলার চালিয়েছেন আমার উপর। বাবা জীবিত থাকতে, তার কাছ থেকে এ সবের চিকিৎসার নামে আমার যে ল্যান্ড প্রপার্টি ছিলো, তার প্রায় সবগুলোই কিনে নিয়েছেন। সুপ্রিয় পাঠক তারপরও কি বলবেন আমি ইচ্ছে করে টাকা কামানোর জন্য এ রকম করছি বা জ্বীনের অভিনয় করছি!? গত কিছুদিন আগে ফেসবুকে এক অপরিচিত ব্যক্তি আমার বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্যই করেছিলো।

অবশ্য পৃথিবীতে বিষয়টি অনেকটা নতুন বিধায় এবং আপনাদের ক্ষেত্রে বা কারো ক্ষেত্রে এরুপ কিছু ঘটছে না বিধায় আপনারা হয়তো বুঝে উঠতে পারছেন না। দেখেন আজ ২২ বছরে আমি জ্বীনকে নিয়ে অর্থ ইনকামের উদ্দেশ্যে আপনাদেরকে আরোগ্য করার তদবীর নামীয় কিছু করিনাই। তাই ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ আমি এ ধরনের কিছু করবো না এবং আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন সরকারী-বেসরকারি অনেক গুলো গুরুত্বপূর্ণ পদবীধারী শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের সমন্বিত বংশের সদস্য হওয়ার পরও আমি প্রায় সম্পূর্ণ একা হয়ে গেলাম। যাক আমার মন ও ব্রেনের উপর জ্বীনের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কয়েকটি উদহারণ লক্ষ্য করুন- (1) আমাকে মসজিদে নামাজ পড়ার সময়, কোরআন তিলাওয়াতের সময় আপনারা অনেক সময়ই কাঁদতে দেখেছেন; যা হয়তো অনেক বড় বড় আলেমদেরকেও আপনারা দেখেননি। এটা অস্বীকার করার কিছু নয় যে, জ্বীনের প্রভাবেই আমি এ রকম পিউর হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনাদের অসম্মানজনক দৃষ্ঠিভঙ্গির কারণে এবং আমিও ঋণী হয়ে যাওয়ায় এদানিং অবশ্য কমে যাচ্ছে আমার এ আচরণটি। তবে এটাতো সত্য যে, এ কান্না ছিলো অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন। আবার একই ভাবে (2) ঈমাম সাহেব জুমার খোতবায় যখন জীবরিলে আমিন (আ:), উমর ফারুক (রা:) এ ধরনের নাম নিতেন তখন ২/৪ জন মানুষ আমার মুখের দিকে চেয়ে থাকলেও, শরীরের এক অত্যধিক শিহরন, আবেগ বা উত্তেজনা থেকে কেহই আমাকে বারণ করে রাখতে পারেনি। যার প্রতিফল ছিলো নিঃশ্বাসের শব্দ এবং চোখের পানি। এ অবস্থায় আপনাদের অনেকের দৃষ্টিভঙ্গিতো আর সম্মানের ছিলো না! কিন্তু তবুও কান্না কিন্তু থামিয়ে রাখতে পারেননি আপনারা কেউ। (3)  অনেক সময় এমন হয়েছে, (বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে, সব ঘটনাতো আর লিখা ঠিক না) জ্বীন আমাকে হয়তো শোয়াইয়া রেখেছে, উঠতে দেয় না, চেষ্টা করলেও পারি না। আবার কখনো হয়তো নামাজ পড়ছি, জ্বীন আমাকে নড়া-চড়া করতে দেয় না। আমার উপর জ্বীনের এ নিয়ন্ত্রণের হার কখনো 30%, কখনো 60%, কখনো 90% বা কখনোবা ১০০%।

অতএব ইহা স্পষ্ট যে, রমজান মাসে বা বিশেষ বিশেষ সময়ে আমি জ্বীন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হই।

আমার এ অবস্থাটি থেকে প্রমাণ করা যায় যে, যাদেরকে জ্বীনে ধরে বা যাদের উপর জ্বীনের আচর হয়, তাদের কথা-বার্তা ও কাজ-কর্ম, তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে হয় না; তাদের নিজেদের পঞ্চইন্দিয়কে তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

হয়তো আমার জ্বীনটি আমার জন্য ভালো বলে প্রতিয়মান হওয়ায় এবং সে আল্লাহ ওয়ালা হওয়ায় মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মর্যাদা দিয়ে আমাকে উচ্চ করে রেখেছে; বাকীদের মতো দুষ্ট জ্বীন হলে হয়তো ঐ রোগীর ব্যবহার উদ্ধত বা মাতলামি বা উলঙ্গপনা; এভাবে যে কোন কিছু ঘটতে পারতো; যেহেতু জ্বীনে ধরা রোগী নিজের উপর নিজে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৯. গ) জ্বীনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তার যে কোন গুরু এর প্রতি আসক্ত বা অনুগত করে দেয়া:

আমার এ ২২ বছরের জ্বীন গঠিত জীবনে এ পয়েন্টে সবচাইতে বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম। তা যে কতটুকু কষ্টের ছিলো, সে বিষয়টি ভাবতে গেলে আজও আমার মন শিহরিত হয়ে উঠে। ভয়ে মনে দুরু দুরু অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিষয়টা কত জটিল ছিলো, তা আপনারা এখনো অনুভব করতে পারেননি।

তো শুনুন একবার বাড়িতে মনস্তাত্ত্বিক অত্যাচারে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম চলে যাই। অবশ্য বাড়িতেও বিষয়টি ছিলো, কিন্তু এতো অতিমাত্রায় ছিলো না।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে যখন কিছুদূর যাই, অমনি বিষয়টি বাঁধভাঙা সমুদ্রস্রোতের মতো আমার মন মগজ আর সমস্ত অন্তকরণে আমার সর্বোচ্চ প্রাণপণ চেষ্টার বাধা অতিক্রম করে বেরিয়ে আসে। আমি আপনাদেরকে পূর্বোক্ত হিন্টস এর মধ্যে জানিয়েছি যে, জ্বীন মানুষকে অকার্যকর করে ১০০% তার মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। আমিও তখন প্রায় পুরোটা জ্বীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিভাবে যে আমি নিজকে এবং নিজের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যকে বিসর্জন দিইনি এ জেহাদ এবং অন্তহীন এ কষ্ট কেবল আমিই জানি। পৃথিবীর ২য় আর কেউ জানে না।

আজকে আমার মনের সে গোপন এক জেহাদের কথা আপনাদেরকে জানাতে পেরে আমার নিজের কাছে অনেক ভালো লাগছে। জানিনা আপনাদেরকে আমার অন্তকরণের মধ্যে সংঘঠিত সে মর্মস্পর্শী ঘাত প্রতিঘাতের কতটুকু বোঝাতে পারবো বা আপনারা কতটুকু বুঝে নিতে পারবেন।

হাঁ, এবার বলি আমার ঈমান হারানোর মতো সে বিষয়টি।

জ্বীন আমাকে বার বারই বোঝাচ্ছিলো, আমি নাকি হযরত ঈমাম মাহাদী (আ:)। বার বারই আমার ব্রেনে বিষয়টি উঠে পড়তো। বাড়িতেও যথেষ্ট চলেছিল সে যুক্তি তর্ক। আবার সব সময় যে আমার জানা কোরআন হাদিস দিয়ে জ্বীনের প্যাঁচটা কাটতে পারতাম, তাও না। কারণ জ্বীন আমার ব্রেনকে বন্দী ও অকার্যকর করে রাখতো। তার উপর মানুষের বিভিন্ন অত্যাচারে ব্রেন এমনিতেই দূর্বল পজিশনে থাকতো। এটা জ্বীনের দ্বারা ১০০% সম্ভব।

তো বাড়ি থেকে যখন বেরুলাম এবং জ্বীন যখন আমাকে এ বিষয়ে ধরে বসলো। ধরে তো বসে নাই এ বিষয়ে আমাকে সে পুরো তার নিয়ন্ত্রণেই নিয়ে গেলো। বার বার আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলো, আমি ঈমাম মাহাদী (আ:)। এ জেহাদের পূর্ব থেকেই আমি হয়তো জানতাম পৃথিবীতে এ পর্যন্ত কয়েকজন নিজকে ঈমাম মাহাদী (আ:) দাবি করেছিলো এবং তাদের প্রায় সবারই করুন পরিণতি এ পৃথিবীতেই হয়েছিলো।

তো মানুষের সামনে বাজারের মধ্যে আমার মুখ দিয়েতো বেরিয়েই যাচ্ছে, আমি ঈমাম মাহাদী (আ:)। আমার শেষ চেষ্টা দিয়েও যখন আমি নিজকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারছিলাম না, তখন আমার রব আমাকে তাঁর আশ্রয় প্রদান করলেন। আজকে এ বিষয়টি লিখতে বার বার আমি কেঁদেছি। কারণ আমি কখনোই হযরত ঈমাম মাহাদী (আ:) দাবি করা থেকে মুক্ত থাকতে পারতাম না; যদি না রব আমাকে আশ্রয় প্রদান না করতেন। প্রথমত জ্বীনের শক্তির কাছে আমি পরাস্থ হতাম, ২য়’ত তার যুক্তি অনুযায়ী আমি হয়তো তার মতো হয়ে যেতাম। কারণ আমার যুক্তি সমূহকে সে বিস্মৃত করে বন্দী করে রাখতো।

তখন থেকে আমি আরো ভালো ভাবে অনুভব করি যে, শয়তানের (শয়তান জ্বীনের জাত) বিরুদ্ধে কেউ জয়ী হবে না; শুধুমাত্র তারা ছাড়া, যাদেরকে মহান রব তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী, তাঁর নিজের কাছে আশ্রয় দেন ও রহমতের চাদরে ঢেকে রাখেন।

ভায়েরা আমার আপনাদেরকে একান্ত বিনয়ের সহিত অনুরোধ করবো কখনোই ইবলিশের সাথে যুদ্ধ করে বা তর্ক করে রব ভিন্ন শুধু আপনার পক্ষ থেকে জয়ী হওয়ার মানসিকতা রাখবেন না। শয়তানের বিরুদ্ধে জেহাদ করবেন ঠিক আছে; তাকে পরাভূত করতে পারবেন, এ আত্ম বিশ্বাসে তাকে আঘাতের পর আঘাত করবেন ঠিক আছে;  কিন্তু সেখানে জয়ের পরিভাষাটি হবে আল্লাহু তা’য়ালার আশ্রয় এবং কখনোই তা আল্লাহু তা’য়ালার রহমত ব্যতীত হবে না, বিষয়টি আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।

তো আপনাদেরকে আমি বলেছিলাম, আমার সাথের জ্বীন অবশ্যই ভালো প্রকৃতির। তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে যে, ভালো হলে আবার আমাকে হযরত ঈমাম মাহাদী (আ:) বানিয়ে দেয় কিভাবে?

এর একটি উত্তর হচ্ছে, কই বানায়নিতো। আর জ্বীন যদি এ রকম না করতো তাহলে আমি তার বা তাদের বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারতাম না। বা আমার পিউরিটিও প্রমাণিত হতোনা হয়তো। হয়তো  এটিই তার উদ্দেশ্য ছিলো।

 

তারপরও আমি সর্বদাই মনে রাখছি, জ্বীনও একটি সৃষ্টি, আর আমিও একটি সৃষ্টি। এখানে কেউ ফেরেশতা নয়। তাই চোখ-কান খোলা রেখে, বুঝে শুনে, জ্ঞান মোতাবেক জীবন অতিবাহিত করতে হবে। অহেতুক জ্বীনের কথায় নয়। এখানে একদিকে যেমন আমাদের যে কারো ভূল হতে পারে, অপরদিকে কারো মনের খবরতো আর কেউ জানে না!!

তবে আমি সামগ্রিক বিচারে এ জ্বীনকে আমার বন্ধু হিসেবেই বিবেচনা করছি। জানিনা সব মিলিয়ে ঈমান নিয়ে ইন্তেকাল করতে পারি কিনা!!

এ ঘটনা থেকে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, যাকে জ্বীনে ধরেছে, সে জ্বীনের ঈমান ও বিশ্বাস অনুযায়ী ঐ জ্বীনটি, ঐ মানুষটিকে তার যে কোন গুরুর শীর্ষ বানিয়ে দিতে চেষ্টা করবে। যেমনটি হয়তোবা আজগুবি আজগুবি কতগুলো বিশ্বাস নিয়ে বিভিন্ন মাজারে কতগুলো ফকির সাধুকে থাকতে দেখা যায়। তবে প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৯.ঘ) বিভিন্ন ছলনা আর টেকনিকের প্রতি অতিমাত্রায় গুরুত্বারোপ:

দেখুন আমি সরল-সহজ মানুষ। মুখের কথায় বিশ্বাসি। সকলের সামনে মুখে একটা বলা, আর প্রকৃত মনোভাবটি ইশারার মাধ্যমে আরেকটি বোঝানো, এ রকম দ্বি-মুখি ও ছলনার নীতি, যাদেরকে বর্তমানে জ্ঞানী হিসেবে ধরা হয়, তাদের মতো এ ধরনের নীতি বা মুখের কথা বাদ দিয়ে শুধু ইশারা-ইঙ্গিতকে প্রাধান্য দেয়া; এগুলো আমার ভিতর কখনোই ছিলো না।

কিন্তু আমি দেখলাম, যখনই আমার উপর জ্বীন ক্রিয়া করেছে, তখনই আমি যেন হাত বা হাতের আঙুল বা শরীরের যে কোন অঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে মানুষকে কিছু বোঝাচ্ছি বা তাদের থেকে বুঝে নিচ্ছি।

অনেক সময় দেখলাম আমার শরীর থেকেই বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গির মাধ্যমে মানুষকে কোনটি আমার কথা বা কর্ম আর কোনটি জ্বীনের কথা বা কর্ম তা বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং মানুষও যেন সে হিসেবেই বুঝতে পারছে।

ফলে প্রকৃত অবস্থাটি বুঝতে আমার অনেক সময় অনেকটাই বেগ পেতে হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি যদি বিজ্ঞান ও ধর্মীয় ভাবে কিছুটা না জানতাম এবং বাকিদের মতো কোরআন হাদিস বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ব্যতিতই মানুষ যেমন শুনা কথায় বিশ্বাসি হয় বা গীবত-চোগলখুরিতে অভ্যস্থ থাকে; আর অনেক গুলো মানুষের মতো আমার চরিত্রও যদি এ রকম হতো, তাহলে হয়তো জ্বীনগ্রস্থতার এ সময় গুলোতে আমি কিছুতেই ট্রেগাল দিতে পারতাম না।

সে যাই হোক, আমার জ্ঞান-বিশ্বাস অনেকটাই ব্রেনের গভীর থেকে হওয়ায় (যেহেতু আমার জ্ঞান-বিশ্বাসের মূল হচ্ছে তত্ত্ব, তথ্য ও প্রমাণ সহ যে কোন বই ও আমার ব্যক্তিগত যুক্তিতে তাকে সত্য বলে বুঝতে পারা, অথবা কুরআন-হাদিস। ভায়েরা মাইন্ড করবেন না, আপনাদের বা যে কোন ওয়াজের বয়ান থেকে বিবৃত করা কোরআন-হাদিস কিংবা কোন ইতিহাসের বিষয়েও আমি নিজ জ্ঞানের মাধ্যমে বুঝতে চাই যে, এটি সত্য হতে পারে কিনা। আপনারা সবাই বললেন, আর আমি বিশ্বাস করলাম অথবা আমার কোন বিশ্বাস করা বিষয়কে আপনারা ভূল বলবেন, আর আমি অমনিতেই মেনে নিলাম, এ জাতিয় ব্যক্তি ভাই আমি না।

যেহেতু আমার এ ধরনের চরিত্র, তাই জ্বীনগ্রস্থ সময় গুলোতে আপনারা আমায় ভূল বুঝবেন না। কারণ আমার সাথে থাকা জ্বীন প্রায় সবার সাথেই এবং প্রায় সকলের সাথেই বন্ধুত্ব টিকিয়ে ইয়েছ করে চলে, আমার নিজ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়া-চাড়ার মাধ্যমে। যেটা আমি পারি না।

তাই এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, জ্বীনে ধরা ব্যক্তিদের একটি বৈশিষ্ট্য এ রকম যে, তারা চঞ্চল হবে এবং বিভিন্ন ছলনা ও টেকনিকের দিকে খেয়াল করবে। আর আমার সাথে থাকা জ্বীনের এ ধরনের বৈশিষ্ট্য হওয়ার একটি কারণ হলো, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষেরও এ রকমই স্বভাব।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৯.ঙ) চারদিকের বিভিন্ন শব্দের অর্থ অনুভব করা:

যখন আমার উপর জ্বীন ক্রিয়াশীল থাকে, তখন চারদিকে উৎপন্নকৃত বিভিন্ন শব্দকে অর্থবোধক ও একটি শব্দ তার পাশ্ববর্তী আরেকটি শব্দের সাথে পজিটিভলি বা নেগেটিভলি আন্ডার কানেকটেড হিসেবেই বুঝতে পাই। যা মন ও ব্রেনের উপর যথেষ্ট ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। মনে হয় আল্লাহর জমিনে সব কিছুরই একটা সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। এতে বন্ধু মানুষদের শব্দতো পজিটিভ বুঝতে পাই, ঠিক তেমনি পক্ষীকূল বা যে কারো বা যে কোনো কিছুর শব্দকে হয় পজিটিভ বা নেগেটিভ বুঝতে পাই।

জানিনা এর রহস্য আসলে কোথায়। যেমন একজন মানুষ হাই তুললো, আর অমনি ওকে সাপোর্ট দিয়ে আরো কয়েকটি শব্দ শুনা গেলো। হাই কিন্তু ইবলিশ থেকে আসে, এটা আপনারা সকলে জানেন। এভাবে নিজের অজান্তেই মানুষ একজন আরেকজনকে সাপোর্ট দিচ্ছে বা বিরোধীতা করছে। যাক আমি যদি বিজ্ঞান মনস্কা ও উদার প্রকৃতির না হতাম বা শুধুমাত্র সূত্র নির্ভর বিশ্বাসী না হতাম, তবে এ অবস্থা সমূহ ম্যানেজ করা হয়তো আমার দ্বারা সম্ভব হতো না।

যাক, তবুও আমি মানুষ। ভূল আমার হতেই পারে। কারণ জ্বীনগ্রস্থতার এ সময় গুলো আমার জন্য এতোই জটিল যে, যা আমি আপনাদেরকে ভাষায় বোঝাতে পারবো না।

তাই অনুরোধ, এ সময় গুলোতে আমাকে একটু ছাড় দিবেন এবং পজিটিভলি বিবেচনা করবেন।

আর এ থেকে বুঝতে পারা যায় যে, জ্বীনে ধরা ব্যক্তি গণ চারদিকের বিভিন্ন শব্দের সাথে আন্ডার রিলেটেড হয়। অর্থাৎ কোন শব্দ শোনার সাথে সাথে সে হয়তো হাঁটা শুরু করবে বা বসে পড়বে। অর্থাৎ একটা না একটা পরিবর্তন তার হবেই।

আমি এতো বুঝে শুনে চলতে চেষ্টা করার পরেও অনেক সময়ই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছিলাম। তাই আশা করি আমার এ সময় গুলো আপনারা বুঝে নিবেন এবং শুধু পরীক্ষা করতে না চেয়ে আন্তরিকতার সহিত বুঝিয়ে দিবেন।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৯.চ) নিকটস্থ মানুষের বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিত বা শব্দের কারণে কোন কিছু ভূলে যাওয়া বা তাদের মন-মানসিকতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া:

কথার কথা ধরুন, সেদিন বাজার থেকে আসছিলাম। পথিমধ্যে আমার এক প্রতিবেশী ভায়ের দোকানে প্রবেশ করলাম। ধরুন দোকানদারটি হুজুর টাইপের। ফলে স্বভাবতই উনি আমার জ্বীনের বন্ধু। অথচ আমি দোকানদারের কাছে টাকা পাই। বা যে কোন ভাবে উনি আমার কাছে ঋণী। এখন বিষয়টা এমন হলো যে, আমাকে আমার জ্বীন এমন ভাবে ভূলিয়ে দিলো প্রয়োজনীয় কথা গুলোও আর হয়তো বলতে পারলাম না। এবং হয়তো এমন হলো যে, আমার বাজার গুলোই ভুলে তার দোকানে রেখে চলে আসলাম।

এ সমস্যায় আমি এতোদিন এতোটাই জর্জরিত ছিলাম যে, অনেক সময়ই পাশ্ববর্তী যে কোন চেহারা দেখে বা শব্দ শুনে বা ইশারা ইঙ্গিতে আমি অনেক কিছুই ভূলে গিয়েছিলাম।

তো আশা করবো, আমার পরিচিত ব্যক্তি গণ, যারা বুঝতে পেরেছেন যে, রমজান মাসে বা শুক্রবারে আমার মধ্যে জ্বীন উদিত হয়; তারা আর আমাকে পরীক্ষায় না ফেলে শুধু প্রয়োজনীয় কার্য সম্পন্ন করবেন।

তবে শুধু মনে রাখুন যে, জ্বীন উদিত হওয়ার এ সময় গুলোতে আমি মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হই এবং ভূলে যাই, আমার প্রতিপক্ষ মানুষটির ইচ্ছা অনুযায়ী। কারণ জ্বীন, সে সকলের সাথে বন্ধুত্ব করে চলতে চায়, যা আমি পারি না।

মনস্তাত্ত্বিক এ বিষয় গুলো আসলে এতোটাই জটিল যে, যা ভাষা দিয়ে বোঝানো অনেক ক্ষেত্রে সম্ভবও হবে না।

অনেক সময় এমনও হয়, আমার পাশ্ববর্তী ব্যক্তি গণ যে কোন নেগেটিভ চিন্তা করলেন, বা আমাকে দেখে তারা পজেটিভ না ভেবে যে কোন কারণেই হোক না কেন, নেগেটিভ ভাবলেন; আর অমনি আমার কাছ থেকে সে নেগেটিভ আচরণটি প্রকাশিত হলো; অথচ মানুষ গুলো মনে করলো এটা আমার কারেক্টার; কিন্তু বাস্তবে এটা আমার কারেক্টার নয়; পাশ্ববর্তী যে কোন মানুষের বা মানুষদের কারেক্টারই আমার চোখে-মুখে বা শরীরে দৃশ্যমান হয়েছে। আর আমি নিজকে নিজের মতো করে রাখতেও পারিনি। জ্বীনের এ রকম বৈশিষ্ট্য কেন হয় বা অতীতে হয়েছে তা আমি নিজেও বুঝতে পারি না। আমি যা না, তাই আমার নিকট থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থা গুলো কতটুকু কষ্টের, তা ভুক্তভূগী ব্যতিত আর কেউ বুঝতে পারবে বলে মনে হয় না।

এ সিটোয়েশনে অতীতে আমি বহুবার মানুষের নিকট দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলাম। জ্বীন কি আমাকে এ রকম বাজে পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়ে আমার পিউরিটি সম্পর্কে মানুষকে অবগত করাতে চেয়েছিল কিনা আমি তা ঠিক বুঝতে পারি নে।

যাক, যে বা যারাই আমার এ প্রবন্ধ পড়বেন, দয়া করে আমার বিষয়ে তারা এ বিষয় গুলো মাথায় রাখবেন। কারণ ভবিষ্যতেওতো আরো অনেক রমজান, শুক্রবার বা বিশেষ বিশেষ সময় আমার জীবনে ইনশা’আল্লাহ আসতে পারে। অবশ্য টাকা ইনকাম করতে পারলে, মানুষের পাওনা সমূহ পরিশোধ করে ফেলতে পারলে, আমার এ বৈশিষ্ট্য সমূহের স্ব-রুপ পরিবর্তিত হতে পারে।

একই সাথে যাদেরকে জ্বীনে ধরে তাদের বিষয়ে বুঝে নিবেন, তাদের সকল কথা বা কর্ম বা মনে থাকা বা ভূলে যাওয়া, এগুলো অনেক সময় তাদের নিজের থেকে হয় না। ফলে অযথা তাদেরকে ভূল বুঝবেন না।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

৯.ছ) পক্ষীকূল ও প্রাণীকূলের সাথে একটি বন্ধুত্ব গড়ে উঠা:

প্রায় সময় এমন হয়েছে যে, পাখির ডাকে আমি পেয়েছি কোন কাজের সাপোর্ট বা নিষেধাজ্ঞা। আমার কাছে মনে হয়েছে পাখিরাও যেন আমার জ্বীনের দলের অথবা পাখিদের সাথেও রয়েছে যেন আমার বা আমার জ্বীনের কোন নেটওয়ার্ক। তারাও যেন আমার কথা ও কাজে আমাকে সহযোগিতা করছেন। শুধু পাখিরা নয়, দুনিয়ার অন্যান্য সকল প্রাণির শব্দে, এমনকি বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া বা কোন জড় পদার্থের সাথে অন্য কোর পদার্থের সাংঘর্ষিক কম্পনের শব্দ ইত্যাদির মাঝেও আমি যেন পাই, একটি দিক নির্দেশনা। পাখিদের সাথে এ রকম একটা মুহাব্বতের কারণে আমি সুখই পেয়েছি, কোন কষ্ট পাইনি। মানুষকে বিশ্বাস করা না গেলেও, পাখিদেরকে বিশ্বাস করেছি খুব সহজে। তাদের ডাকে আমার জ্ঞান জাগ্রত হয়েছে, ভুলে যাওয়া কিছু, স্মরণে এসেছে। জ্বীনের এ নেটওয়ার্কটি আমার জন্য অবশ্যই ভালো ছিলো।

যাক এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, জ্বীনে ধরা কোন ব্যক্তির সাথে পারিপার্শ্বিক আরো অনেক প্রাণি ও জড়ের সাথে একটা সম্পর্ক থাকতে পারে, একটা কানেকশান থাকতে পারে। তবে জ্বীন ও মানুষটি যদি ভালো বা বুদ্ধিমান হয়, তবে এ কানেকশান হবে এক রকম; আর এর ব্যতিক্রম হলে হয়তোবা এ কানেকশানটি হবে ভিন্ন রকম।

৯. জ) নিজকে অতি উচ্চ শ্রেণীর কেউ বা মহান ব্যক্তি হিসেবে বুঝতে পারা:

জ্বীনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য আমি লক্ষ্য করেছি, যতবারই জ্বীন আমার শরীরে প্রকাশিত হয়েছে, ততবারই আমার অজান্তেই, আমার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বাইরেই আমি যেন পৃথিবীর এক মহান পুরুষ।

আমি যেন এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। সবাই যেন আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। গ্রাম থেকে শহরে সবাই যেন, আমাকে নিয়েই আশা করছে।

এ রকম নিজকে মহান পুরুষ হিসেবে বুঝতে পারা বা অটো ভাবে নিজের ইচ্ছা শক্তির বাইরে মানুষের লিডার বা উপকারি বন্ধু সেজে বসে থাকা এবং মনেকরা যে মানুষগুলো তাকে নিয়েই ব্যস্ত, তাকে নিয়েই তাদের আশা ভরসা; জ্বীনে ধরা রোগীদের ক্ষেত্রে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এ রকমও হতে পারে।

১০) মানুষ কর্তৃক অত্যাচারিত হলে তখন আমার অবস্থা:

আসলে আমার এ কারেক্টারের সাথে জ্বীন প্রকাশিত হওয়া, এ বিষয়টি পৃথিবীতে অনেকটা নতুন হওয়ায়, অনেকেই আমাকে ঠিক ভাবে হয়তো বুঝতে পারছেন না। কারণ দুনিয়ায় যাদের কাছেই জ্বীন রয়েছে, এদের প্রায় সবাই দুনিয়াতে মান-সম্মানের একটি অবৈধ ধান্দা করে এবং নিজের মাঝে একটা কৃত্তিমতা সৃষ্টি করে। আর মানুষ গুলোর মাঝেও এসব দুষ্ট জ্বীনের বৈশিষ্ট্য থাকায় বা সরাসরি জ্বীন ক্রিয়েটিভ হওয়ায় তারা তাদেরকে সাপোর্ট দেয়, অথচ আমাকে তারা বুঝতে পারছে না হয়তো। আর তাই আমাকে মানুষ কর্তৃক হতে হয়েছিলো নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অপমাণিত। যার অবশ্যাম্বাভী ফল হিসেবে কারো কারো নিকট আমাকে মানসিক রোগী হিসেবেই সাব্যস্ত হতে হয়েছিলো হয়তো। আর তখনকার আমার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে

এখানে ক্লিক করে

এ প্রবন্ধটি পড়তে পারেন।

(মানব শরীরে জ্বীনের প্রতিক্রিয়া, পোস্টটি লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করতে অনুরোধ করা হলো)

১১) উপসংহার:

উপসংহারে বলতে চাই, আজকের এ প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে, আমার সাথে রিলেটেড ব্যক্তিবর্গ গণ আশা করি আমার এ জ্বীনে ধরা অবস্থা গুলোর কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন। কষ্ট করে প্রবন্ধটি লিখেছি, যাতে আমার এ অবস্থা গুলো জানার পর আমরা পরষ্পর অনুকূল ব্যবহার করতে পারি। দেখুন মানুষ যা পারে না, বা যে- যে রকম নয়, মহান রব তাকে সে রকম কিছু চাপিয়ে দেন না। অতএব আমি আশা করবো, আপনারাও আমার সাথে আমার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ব্যবহার করবেন এবং আমার পরিস্থিতি চিন্তা করে আমাকে বুঝতে চেষ্টা করবেন।

আবার যেহেতু জ্বীন তার নিজস্ব অবয়বে আমার সাথে প্রকাশিত হয়নি; বরং আমার শরীরেই তার প্রকাশ ঘটেছে; তাই সকলে বুঝে নিতে পারেন যে, জ্বীন জাতির সদস্য গণ মানুষের সাথে মিশেই, তার বা তাদের সমস্ত কাজ-কর্ম সম্পাদন করতে পারে এবং করছে।

তাহলে যেহেতু আমার সাথে জ্বীন জাতির সদস্যগণ থাকে, তাহলে অন্যদের সাথেও তারা রয়েছে বা থাকতে পারে। তাহলে ইহা স্পষ্ট যে, বাতাসের মধ্যেও বা মানুষের সাথেও থাকতে পারে অদৃশ্য এক বা একাধিক প্রাণি; মানুষকে এসব বিষয় গুলোও বোঝা উচিৎ এবং মানুষের যে কোন কথা বা কাজ করতে তাদেরকেও লজ্জা করা উচিৎ।